সিলিন্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা! এবার আর ১৪.২ কেজি নয়, ওজনে মিলবে আধা ভর্তি গ্যাস?

মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। এলপিজি (LPG) সরবরাহে ঘাটতি মেটাতে এবার এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। সূত্রের খবর, ১৪.২ কেজির পরিবর্তে এখন থেকে সিলিন্ডারে অর্ধেক পরিমাণ গ্যাস ভরে সরবরাহ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সিলিন্ডারের নতুন মাপ ও ওজনে দাম বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডারের পরিমাণে কাটছাঁট করতে পারে। প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী, ১৪.২ কেজির ডমেস্টিক সিলিন্ডারে এখন থেকে ৭ বা ১০ কেজি গ্যাস ভরা হতে পারে। একইভাবে, ১০ কেজির ফাইবার বা প্লাস্টিক সিলিন্ডারে মিলবে মাত্র ৫ কেজি গ্যাস। গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে গ্যাসের দামও নির্ধারিত হবে সেই নির্দিষ্ট ওজনের ভিত্তিতেই। যদিও পেট্রলিয়াম মন্ত্রক এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়নি, তবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই বিকল্পটিকেই সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।

বুকিংয়ের নিয়মে কড়াকড়ি ও বাণিজ্যিক স্বস্তি গ্যাসের পরিমাণ কমলেও বুকিংয়ের ব্যবধানে কোনো ছাড় মিলছে না। শহরাঞ্চলে ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিনের যে সময়সীমা রয়েছে, তা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে সুখবর রয়েছে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে। হোটেল, রেস্তরাঁ ও ধাবাগুলির জন্য বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ৫০ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যাতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও দুগ্ধ উৎপাদন শিল্প থমকে না যায়, তার জন্যই এই বিশেষ অগ্রাধিকার।

আমেরিকা থেকে আসছে সাহায্য হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটাতে ভারত এখন আমেরিকার দিকে হাত বাড়িয়েছে। সেই প্রচেষ্টার সুফল হিসেবেই রবিবার সকালে টেক্সাস থেকে ‘পিক্সিস পায়োনিয়ার’ নামক একটি গ্যাস ট্যাঙ্কার ম্যাঙ্গালুরু বন্দরে এসে পৌঁছেছে। আগামী ২৫ এবং ২৯ মার্চ আরও দুটি বিশালাকার জাহাজ ভারত ও ইন্ডিয়ান অয়েলের জন্য বিপুল পরিমাণ গ্যাস নিয়ে পৌঁছাবে। বিশ্ববাজারে সংকটের মেঘ ঘনালেও বিকল্প পথে জ্বালানি মজুত করে পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া দিল্লি।