শুধু হরমুজ নয়, ৯ দেশে ড্রোন-মিসাইল বৃষ্টি! ১১৯ ডলার পার করল অপরিশোধিত তেল, চরম সংকটে ভারত?

বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে আগুন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল জলপথের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি আঘাত হেনেছে বিশ্বের জ্বালানি মেরুদণ্ডে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাতের জেরে বর্তমানে ৯টি দেশের মোট ৩৯টি প্রধান শক্তি কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার চেয়েও বড় বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতি।

নয় দেশে ধ্বংসলীলা: ড্রোন ও মিসাইলের নিশানায় রিফাইনারি নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি চাঞ্চল্যকর তদন্তে উঠে এসেছে যে, গত কয়েক দিনে তেল শোধনাগার, প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোয় একের পর এক হামলা হয়েছে। কোথাও ড্রোন, আবার কোথাও বিধ্বংসী মিসাইল দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে উৎপাদন কেন্দ্র। বুধবার ইজরায়েল যখন ইরানের ‘সাউথ পার্স’ গ্যাস ফিল্ডে হামলা চালায়, পাল্টা হিসেবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক তেল কেন্দ্রে আঘাত হানে। শুধু এই সপ্তাহেই কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব এবং ইজরায়েলের তেল শোধনাগারগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাতারের এলএনজি সংকট: দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়ের পূর্বাভাস সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে কাতার। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি কেন্দ্র ‘রাস লাফান’-এ হামলার ফলে দেশটির এলএনজি রফতানি ক্ষমতার ১৭ শতাংশ স্তব্ধ হয়ে গেছে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। যেহেতু এলএনজি-র কোনো সহজ বিকল্প নেই, তাই ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

আকাশছোঁয়া তেলের দাম ও যুদ্ধের রণকৌশল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭৩ ডলারের নিচে। বর্তমানে তা ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আমেরিকার জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইরান তাদের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে জ্বালানি কেন্দ্রগুলোকে রক্ষার চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন এখন হরমুজ প্রণালীর অবরোধ ভাঙতে ন্যাটোর সাহায্য চাইলেও, অনেক দেশই সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াতে অনিচ্ছুক। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকা সাময়িকভাবে ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে এবং আপৎকালীন ভান্ডার থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ব এখন এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে তেলের প্রতিটি ফোঁটা যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণ করছে।