খাবার অর্ডার করা এখন আরও দামী! জোম্যাটোর বড় ঘোষণা, পকেট গড়ের আগে সাবধান!

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব এবার এসে পড়ল আপনার লাঞ্চ বা ডিনারের প্লেটে। আপনি যদি নিয়মিত অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ব্যবহার করে খাবার অর্ডার করতে অভ্যস্ত হন, তবে আপনার জন্য রয়েছে দুঃসংবাদ। জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি জায়ান্ট জোম্যাটো (Zomato) তাদের প্ল্যাটফর্ম ফি একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে এখন থেকে প্রতিবার অর্ডার করার সময় আপনাকে আগের তুলনায় বেশি টাকা গুনতে হবে।
কত বাড়ল খরচ?
জোম্যাটো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি অর্ডারে প্ল্যাটফর্ম ফি ২ টাকা ৪০ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে যেখানে ১২ টাকা ৫০ পয়সা প্ল্যাটফর্ম ফি দিতে হতো, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৯০ পয়সায়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেষবার এই ফি বাড়ানো হয়েছিল। এত দিন সুইগির তুলনায় জোম্যাটোর চার্জ কিছুটা কম থাকলেও, বর্তমানে দুই সংস্থাই প্রায় সমান্তরালে চলে এল। প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা সুইগি বর্তমানে প্রতি অর্ডারে ১৪ টাকা ৯৯ পয়সা চার্জ নিচ্ছে।
কেন এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি?
এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতেও এর প্রভাব পড়েছে মারাত্মকভাবে। গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট-বড় অনেক রেস্তোরাঁ ও হোটেল বন্ধ হতে শুরু করেছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক ভারসাম্য বজায় রাখতেই জোম্যাটো ফি বাড়ানোর পথে হেঁটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজারে নতুন প্রতিযোগীর চাপ
আশ্চর্যের বিষয় হলো, জোম্যাটো যখন দাম বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই বাজারে এন্ট্রি নিয়েছে নতুন প্রতিযোগী। বাইক-ট্যাক্সি পরিষেবা হিসেবে পরিচিত র্যাপিডো (Rapido) সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে তাদের ফুড ডেলিভারি পরিষেবা ‘ওনলি’ (Only) চালু করেছে। র্যাপিডো ঘোষণা করেছে যে তারা গ্রাহক বা রেস্তোরাঁর কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ডেলিভারি ফি বা প্ল্যাটফর্ম ফি নেবে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, র্যাপিডোর এই পদক্ষেপ জোম্যাটো ও সুইগির মতো সংস্থাগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ এবং মুদ্রাস্ফীতির জাঁতাকলে পড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বিলাসিতা এখন অগ্নিমূল্য। অনলাইনে খাবার অর্ডার করার ক্ষেত্রে পকেট সামলে চলাই এখন বুদ্ধিমত্তার কাজ।