“হরমুজ খোলা, তেল কিনতেও রেডি ভারত”-তবে ফের খারাপ খবর শোনাল ইরান?

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা আর তার মাঝেই ভারতের জ্বালানি ভাণ্ডার নিয়ে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হওয়া, আর অন্যদিকে বন্ধু দেশ ইরানের তেলের ভাঁড়ারে টান— সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত গোলকধাঁধায় ভারতের তৈল শোধনাগারগুলি।

ট্রাম্পের ‘গ্রিন সিগন্যাল’, কিন্তু তেল কোথায়?

ভারত দীর্ঘকাল ধরেই ইরানের থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে আগ্রহী। সূত্রের খবর, ট্রাম্প প্রশাসন ইরান থেকে তেল কেনায় কিছুটা ছাড় দিতেই তৎপর হয়েছে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো। কিন্তু বাধ সেধেছে খোদ তেহরান। ইরানের তেল মন্ত্রকের দাবি, এই মুহূর্তে তাদের কাছে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির মতো বাড়তি বা ‘ফ্লোটিং ক্রুড’ মজুত নেই। ফলে ইচ্ছা থাকলেও ভারতকে তড়িৎঘড়ি তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালী: কেন কাঁপছে বিশ্ববাজার?

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয় এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে। ইরান ও ওমানের মাঝের এই পথ বন্ধ হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি হাহাকার।

  • বর্তমান পরিস্থিতি: যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরান এই পথে জাহাজ চলাচলে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।

  • ভারতীয় জাহাজ: গত ২ দিনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২২টি ভারতীয় জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে Indian OilBharat Petroleum-এর রান্নার গ্যাস (LPG) বোঝাই বড় দুটি ট্যাঙ্কারও রয়েছে। যদিও কূটনৈতিক তৎপরতায় সেগুলিকে ছাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

মোদী-কূটনীতিতে স্বস্তি?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে ওমানের সুলতান ও ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলছেন। ফলও মিলেছে হাতেনাতে; গত সপ্তাহে দুটি এলপিজি জাহাজকে বিশেষ অনুমতি দিয়ে ছেড়েছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানই এই সংকটে রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি পাকিস্তানগামী জাহাজকে ছাড় দিলেও ইরান বেছে বেছে বন্ধু দেশগুলোকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সাধারণ মানুষের চিন্তা কোথায়?

যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। সেক্ষেত্রে ভারতে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা সরাসরি ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা টান ফেলে, এখন সেটাই দেখার।