ইদের সকালে শ্রীরামপুরে নাটকীয় মোড়! মীনাক্ষীকে ‘পরিযায়ী’ বলে তোপ কল্যাণের, পাল্টা কী বললেন বামনেত্রী?

পবিত্র ইদ-উল-ফিতরের সকালে বাংলার রাজনীতিতে দেখা গেল এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। একদিকে যখন উৎসবের মেজাজে যুযুধান দুই শিবিরের প্রার্থীদের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় ও করমর্দন নজর কাড়ল, ঠিক তার পর মুহূর্তেই শুরু হলো তীক্ষ্ণ বাক্যবাণ। শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিআইএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মধ্যেকার এই ভার্চুয়াল লড়াই এখন টক অফ দ্য টাউন। মীনাক্ষীকে ‘পরিযায়ী’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তাঁকে আগাম হারের আশঙ্কায় অন্য জায়গা দেখে রাখার পরামর্শ দিলেন হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা।

শনিবার সকালে উত্তরপাড়ার কোন্নগর ধারসার একটি ইদগাহে সাধারণ মানুষকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থীর পুত্র তথা যুব নেতা শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই আচমকা দেখা হয়ে যায় বামপ্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। রাজনৈতিক তিক্ততা সরিয়ে দু’জনেই হাসিমুখে করমর্দন করেন এবং সৌজন্য বিনিময় করেন। শীর্ষণ্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আজ উৎসবের দিন, কোনো প্রচার নয়। মীনাক্ষী দেবীকে ভালো থাকার শুভেচ্ছা জানালাম। আমাদের লড়াইটা আদর্শের, ব্যক্তির নয়।”

তবে ছেলের সৌজন্যের রেশ কাটতে না কাটতেই আসরে নামেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মীনাক্ষীর নাম না করে তাঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, “সিপিআইএম ৩৪ বছরে যা করেছে, তাতে মুখ দেখানোর জায়গা নেই। একবার এখানে দাঁড়াচ্ছে, একবার ওখানে দাঁড়াচ্ছে আর হারছে। এবারও হার নিশ্চিত।” কটাক্ষের সুর আরও চড়িয়ে তিনি মীনাক্ষীকে ‘পরিযায়ী প্রার্থী’ বলে অভিহিত করেন এবং পরামর্শ দেন যেন আগামী নির্বাচনের জন্য তিনি এখনই নতুন কোনো কেন্দ্র খুঁজে রাখেন।

কল্যাণের এই আক্রমণাত্মক বার্তার বিপরীতে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে দেখা গেল যথেষ্ট সংযত মেজাজে। নন্দীগ্রামের প্রাক্তন প্রার্থী মীনাক্ষী অত্যন্ত শান্তভাবে জবাব দেন, “আজ খুশির ইদ। সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে উৎসব পালন করছেন। আজ শুধু খুশির দিন, আমি চাই আজ সবাই জিতুক।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কল্যাণের আক্রমণ বনাম মীনাক্ষীর সংযম—শ্রীরামপুরের নির্বাচনী লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিল।