আরজি করের লিফট যেন আস্ত এক মরণফাঁদ! চোখের সামনে স্বামীর চুরমার দেহ দেখে শিউরে উঠছেন স্ত্রী

আরজি কর হাসপাতালের ল্যাথারজিক পরিকাঠামো আর চরম গাফিলতি ফের একবার কেড়ে নিল একটি প্রাণ। ছোট্ট ছেলের অপারেশনের আগে সামান্য শৌচালয়ে যাওয়ার প্রয়োজনটুকুই যে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি তাঁর পরিবার। অপারেশন থিয়েটারের সামনে শৌচালয় থাকলেও তা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি তাঁদের। পাঁচতলার শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য লিফটে ওঠাই কাল হলো তাঁদের। চোখের সামনে স্বামীর রক্তাক্ত নিথর দেহ আছড়ে পড়ার সেই বীভৎস ট্রমা আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে অরূপবাবুর স্ত্রীকে।

এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিহত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী সেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, লিফটে ওঠার পরেই সেটি নির্দিষ্ট তলায় না দাঁড়িয়ে অদ্ভুতভাবে ওঠা-নামা শুরু করে। এক সময় দরজা খুললেও সামনে ছিল লোহার তালাবন্ধ গেট। সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও দীর্ঘক্ষণ কেউ এগিয়ে আসেনি। আতঙ্কিত হয়ে যখন তাঁরা লিফট থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেন, তখনই আচমকা সেটি সচল হয়ে উপরে উঠতে শুরু করে। টাল সামলাতে না পেরে মা ও ছেলে গর্তে পড়ে গেলেও, লিফটের যান্ত্রিক জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে যান অরূপবাবু। কিছুক্ষণ পর তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহটি স্ত্রীর কোলের ওপর এসে পড়ে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘পলিট্রমা’র উল্লেখ রয়েছে, যা প্রমাণ করে লিফটের ভেতর কতটা নৃশংস যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এই ঘটনা ফের একবার রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, লিফটটি বিকল হওয়া সত্ত্বেও কেন সেটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে রাখা হয়েছিল? কেন জরুরি ভিত্তিতে দমকলকে খবর দেওয়া হলো না? ইতিমধ্যেই অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু হাসপাতালের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। ১ বছর ৭ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও আরজি করের পরিকাঠামো যে তিমিরে ছিল, সেখানেই রয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।