মধ্যবিত্তের পকেটে আগুন! ১১২ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, রান্নার গ্যাস থেকে নিত্যপণ্যে কি বড় ধাক্কা?

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার ত্রিমুখী সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে লাগল সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামের গ্রাফ যে হারে বাড়ছে, তাতে আগামী দিনগুলো মধ্যবিত্তের জন্য অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার থেকে লাফিয়ে ১১২ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। তেলের এই ‘সেঞ্চুরি’র ফলে পেট্রোল-ডিজেলের পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের (LPG) দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন বাড়ছে আতঙ্ক?
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব কেবল জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর ফলে পকেটে টান পড়বে আরও একাধিক ক্ষেত্রে:

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য (FMCG): সাবান, শ্যাম্পু থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত খাবারের দাম বাড়তে পারে।

নির্মাণ সামগ্রী: তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে, ফলে সিমেন্ট, রড ও রাসায়নিক পদার্থের দাম বাড়বে।

অটো সেক্টর: গাড়ি ও খুচরো যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।

মুদ্রাস্ফীতি: বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ১০% বাড়লে ভারতের পাইকারি মূল্য সূচক (WPI) ৫.৭% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

অতীতের ভয়ংকর পরিসংখ্যান:
ব্রোকারেজ হাউস ‘অ্যামবিট’-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৩৫ বছরে এই নিয়ে মাত্র চতুর্থবার তেলের দাম ৮০ ডলারের গণ্ডি ছাড়াল। এর আগে ২০০৭-০৮, ২০১০-১৪ এবং ২০২১-২৩ সালে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। রেকর্ড বলছে, একবার তেলের দাম ৮০ ডলারের উপরে উঠলে তা ফের নিচে নামতে অন্তত ১২ থেকে ১৯ মাস সময় লাগে। অর্থাৎ, সস্তায় তেল বা গ্যাস পাওয়ার আশা আপাতত সুদূরপরাহত।

শুক্রবার ১০৭ ডলারে থাকা তেল শনিবার ১১২ ডলারে পৌঁছে যাওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই অস্থিরতা সহজে কাটবে না। মুদ্রাস্ফীতির এই প্রভাব সাধারণত এক মাস পর থেকে বাজারে টের পাওয়া যায়। ফলে আগামী মাস থেকে বাজারদর কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা ভেবেই এখন সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ভাত-ডাল খাওয়া সাধারণ মানুষ।