“অমিত শাহের অফিস থেকে হুমকি আসছে, ২০ লক্ষ জওয়ান পাঠিয়ে ছাপ্পা দেবে!” বিস্ফোরক মমতা!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই তপ্ত বাংলার রাজনীতি। এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। মমতা বলেন, “ভারত সরকার, অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদীর অফিস থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে ২০ লক্ষ জওয়ান পাঠাও, তারা নাকি ভোটের ভেতরে ঢুকে ছাপ্পা দেবে!” তৃণমূল নেত্রীর মতে, বাংলার পুলিশকে কাজ করতে না দিয়ে ‘পেটোয়া’ অফিসার বসিয়ে রাজ্য দখলের পরিকল্পনা করছে বিজেপি।

এদিন নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তোলেন। ভোটার তালিকা বা SIR (Supplementary Information Register) নিয়ে তিনি বলেন, “আমি শুনেছি ৬০ লক্ষের মধ্যে ২২ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ লক্ষ বাদ গেছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুরের একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে।” সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নিয়ে এই অনিশ্চয়তার মাঝেই মমতা হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “ইভিএম মেশিন থেকে শুরু করে মানুষকে ভোট দিতে না দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

পাল্টা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ডালিও সাজিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘দুয়ারে সরকার’-এর সাফল্যের পর এবার তিনি ঘোষণা করলেন ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ ও ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ প্রকল্পের। তিনি সাফ জানান, কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে কাজ বাধাগ্রস্ত হলেও প্রতি ব্লকে ও শহরে এই ক্যাম্প চলবেই। উল্লেখ্য, এবার বাংলায় রেকর্ড আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রেকর্ড সংখ্যক অবজার্ভার পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপির এই সিদ্ধান্তে যখন গেরুয়া শিবির উল্লসিত, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া বয়ান ভোটের ময়দানে ‘ধুরন্ধরদের লড়াই’ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।