“বড় লিড না দিলে…?”-TMC কাউন্সিলদের বড় নির্দেশ, ‘পায়ে বেড়ি’ পরাল তৃণমূল হাইকম্যান্ড

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই এবার ঘর গোছাতে কড়া দাওয়াই প্রয়োগ করল ঘাসফুল শিবির। কেবল বিধায়ক বা হেভিওয়েট প্রার্থীরাই নন, দলের জয়ের দায়ভার এবার সরাসরি বর্তাল নিচুতলার ‘প্রথম মুখ’ তথা কাউন্সিলরদের কাঁধে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিধানসভায় নিজের ওয়ার্ডে লিড দিতে না পারলে আগামী পুরভোটে টিকিট পাওয়া কার্যত অসম্ভব হতে চলেছে।
কাউন্সিলরদের ওপর ‘নজরদারি’র খাঁড়া
তৃণমূল সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডের পারফরম্যান্স খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশে তৈরি হচ্ছে বিশেষ ‘পারফরম্যান্স রিপোর্ট’।
-
মূল্যায়ন: কোন ওয়ার্ডে কতবার প্রচার হয়েছে, জনসংযোগ কেমন এবং শেষমেশ বুথভিত্তিক কত লিড এল—সবই থাকবে এই রিপোর্টে।
-
ভবিষ্যৎ: যারা এই ‘লিটমাস টেস্টে’ লেটার মার্কস নিয়ে পাশ করবেন, পুরভোটে তাঁদের টিকিট পাকা। ঢিলেমি করলেই সোজা বাতিলের খাতায়।
পুরভোটের আগে মহড়া: চাপের মুখে কলকাতা-জেলা
কলকাতা তো বটেই, জেলাগুলিতেও একই ছবি। যাদবপুর থেকে শুরু করে রাসবিহারী বা কাশীপুর-বেলগাছিয়া—সবত্রই প্রার্থীরা কাউন্সিলরদের নিয়ে জরুরি বৈঠক সারছেন। বার্তা একটাই, “পাড়া আপনার, লিডও আপনাকে এনে দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক পরেই রাজ্যে বড় মাপের পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এবারের লড়াইটা কাউন্সিলরদের কাছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। পাড়ার ‘দাদা’রা এখন সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হচ্ছেন, কারণ সামনেই ঝুলছে টিকিটের ভাগ্য।
রিপোর্টার্স ডায়েরি: কী বলছে ঘাসফুল শিবির?
তৃণমূলের শীর্ষ মহলের দাবি, সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই কড়া পদক্ষেপ। এতে যেমন দলের প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে জয়ের অক্সিজেন পাবেন, তেমনই নিচুতলার সংগঠন কতটা মজবুত, তার আসল চেহারাটাও সামনে আসবে। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর বিধানসভাই ঠিক করে দেবে আগামী পুরবোর্ডে কারা বসবেন আর কারা ক্ষমতার বৃত্ত থেকে ছিটকে যাবেন।