“বউ কোনো পরিচারিকা নন”, ঘরকন্না নিয়ে স্বামীকে নজিরবিহীন ধমক সুপ্রিম কোর্টের!

“স্ত্রী মানেই কি ঘরের সব কাজ করার মেশিন?”— এক বিবাহবিচ্ছেদের মামলার শুনানিতে এমনই এক কঠোর ও প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তুলল দেশের শীর্ষ আদালত। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, রান্নাবান্না বা ঘরের যাবতীয় কাজ সামলানোর দায়িত্ব শুধু স্ত্রীর একার নয়। একজন স্বামীর বোঝা উচিত যে তিনি কোনো ‘পরিচারিকা’কে বিয়ে করেননি, বরং একজন জীবনসঙ্গিনীকে বেছে নিয়েছেন। তাই বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে স্বামীদেরও সমানভাবে বাড়ির কাজে হাত লাগানো উচিত।

২০১৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এক দম্পতির বিচ্ছেদ মামলাকে কেন্দ্র করে এই শোরগোল। স্বামীর অভিযোগ ছিল, তাঁর স্ত্রী বাড়ির কাজে কোনো আগ্রহ দেখান না, রান্না করেন না এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করেন। এমনকি সন্তানের জন্মের পর বিশেষ অনুষ্ঠানেও স্বামীপক্ষের কাউকে ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। নিম্ন আদালত এই যুক্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের পক্ষে রায় দিলেও, মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে ছবিটা বদলে যায়। বিচারপতিরা সাফ জানান, “সময় বদলেছে। অতীতে কী হতো তা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই জীবনসঙ্গী, তাই কাজ ভাগ করে নেওয়াই দস্তুর।”

অন্যদিকে, স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, পণের দাবিতে তাঁর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো এবং তাঁর পরিবারকে ছোট করা হতো। দুপক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে স্বামী ও স্ত্রী উভয়কেই সশরীরে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আধুনিক সমাজে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে এবং দাম্পত্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে সুপ্রিম কোর্টের এই মৌখিক পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।