মহিলারা সন্তানধারণে রাজি না হলে অন্য পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাশিয়া সরকার রাশিয়ায়

রাশিয়ায় জনসংখ্যা হ্রাসের সংকট এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিল। দেশের তলানিতে ঠেকে যাওয়া জন্মহার নিয়ে রীতিমতো দিশেহারা ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, এখন রুশ মহিলারা সন্তানধারণে অনিচ্ছুক হলে তাঁদের ওপর কঠোর সরকারি নির্দেশিকা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মহিলা যদি মা হতে না চান, তবে তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে সাইকোলজিস্ট বা মনোবিদের কাছে যেতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার স্থিতিশীল জনসংখ্যা বজায় রাখতে প্রতি মহিলা পিছু জন্মহার অন্তত ২.১ হওয়া জরুরি। কিন্তু বর্তমানে এই হার নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৪-এ, যা গত ২০০ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এই জনতাত্ত্বিক বিপর্যয় রুখতে পুতিন সরকার ইতিপূর্বে একাধিক জনমোহিনী প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল। সন্তান নিলে কর্মক্ষেত্রে লম্বা ছুটি থেকে শুরু করে মোটা অঙ্কের আর্থিক অনুদান—সবই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও রুশ মহিলাদের সন্তানধারণের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

এবার সেই ‘নরম’ পথ ছেড়ে কড়া নির্দেশের পথে হাঁটল ক্রেমলিন। নতুন স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সন্তানধারণে অনিচ্ছুক মহিলাদের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মনোবিদরা তাঁদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করবেন এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার সুফল ও প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে তাঁদের মত পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন। সরকারের এই পদক্ষেপ রাশিয়ার অন্দরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলেও সরকার নিজের অবস্থানে অনড়। কারণ, জন্মহারের এই পতন রাশিয়ার ভবিষ্যৎ সামরিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।