ভোটের আগেই রঙের লড়াই! ঘাসফুল-পদ্ম-কাস্তে হাতুড়িতে রঙিন কলকাতার ‘পতাকা বাজার’

বসন্তের রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলায় এখন ভোটের হাওয়া। নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই সরগরম কলকাতার রাজপথ। তবে রাজনীতির আসল উত্তাপ এখন টের পাওয়া যাচ্ছে বড়বাজারের ঐতিহ্যবাহী ওল্ড চায়না বাজার স্ট্রিটে। উত্তর থেকে দক্ষিণ— রাজ্যের প্রতিটি কোণ থেকে রাজনৈতিক কর্মীরা ভিড় জমাচ্ছেন এখানে। লক্ষ্য একটাই, প্রিয় প্রার্থীর প্রচারকে সবথেকে আকর্ষণীয় করে তোলা।
ডিজিটাল যুগেও ভরসা ওল্ড চায়না বাজার: আজকাল নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব অনেক বড় কর্পোরেট এজেন্সি বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি নিলেও, সাধারণ কর্মীদের কাছে ওল্ড চায়না বাজারের বিকল্প নেই। ব্যবসায়ী সুদীপ কুমার আগরওয়াল জানালেন, এবার শুধু পতাকা বা পোস্টারে প্রচার সীমাবদ্ধ নেই। প্রচারে নতুনত্ব আনতে বাজারে এসেছে রাজনৈতিক প্রতীকের বিশেষ শাড়ি। তৃণমূলের জোড়াফুল আর বিজেপির পদ্মছাপ শাড়ি এখন সুপারহিট। এছাড়া গরমের কথা মাথায় রেখে রাজনৈতিক দলের প্রতীক দেওয়া ছাতা, টি-শার্ট, রিস্ট ব্যান্ড এবং চাবির রিং-এর চাহিদাও তুঙ্গে।
কার চাহিদা সবচেয়ে বেশি? ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে বাজারে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার সামগ্রীর চাহিদা আকাশছোঁয়া। সারা বছরই তাদের নানা কর্মসূচি থাকায় বিক্রি ভালো থাকে, তবে ভোট ঘোষণায় তা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। পিছিয়ে নেই বিজেপি বা বাম-কংগ্রেসও। ওল্ড চায়না বাজারের প্রতিটি গলি এখন গেরুয়া, সবুজ আর লাল পতাকায় মোড়া।
প্রস্তুতি তুঙ্গে: এখনও সব দলের প্রার্থী তালিকা পুরোপুরি ঘোষণা হয়নি। ব্যবসায়ীদের ধারণা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যখন প্রার্থীরা ময়দানে নামবেন, তখন বিক্রিবাটা আরও কয়েক গুণ বাড়বে। আপাতত গুদামজাত করে রাখা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টুপি, ব্যাজ আর উত্তরীয়। গণতন্ত্রের উৎসবে মেতে ওঠা রাজনৈতিক দলগুলির চাহিদা মেটাতে এখন দিনরাত এক করে কাজ করছেন বড়বাজারের ব্যবসায়ীরা।