ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্কে রক্তক্ষরণ! ৩ দিনে বিনিয়োগকারীদের বিরাট ক্ষতি, এবার কী করবেন আপনি?

দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম স্তম্ভ HDFC ব্যাঙ্ক এখন কার্যত ঝড়ের মুখে। গত তিনটে ট্রেডিং সেশনে ব্যাঙ্কের শেয়ারে যে পরিমাণ ধস নেমেছে, তাতে কার্যত দিশেহারা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। শুক্রবার সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনেও ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে এই হেভিওয়েট স্টক। পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন দিনে শুধুমাত্র খুচরো বিনিয়োগকারীরাই হারিয়েছেন প্রায় ৯,৪৭২ কোটি টাকা। শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় শেয়ারের দাম ২.৪১ শতাংশ কমে ৭৮০.৪৫ টাকায় এসে ঠেকেছে।
কেন এই পতন? এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে ব্যাঙ্কের অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তীর আচমকা পদত্যাগ। তিনি তাঁর ইস্তফাপত্রে “ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অভাবের” (lack of congruence with personal values and ethics) মতো গুরুতর বিষয় উল্লেখ করেছেন। শীর্ষ নেতৃত্বের এই টানাপড়েন এবং এমডি ও সিইও-র পুনর্নিয়োগ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড়সড় চিড় ধরিয়েছে।
বড় বিনিয়োগকারীদের অবস্থা: ক্ষতির তালিকায় শুধু সাধারণ মানুষ নন, রয়েছে এলআইসি (LIC), সিঙ্গাপুর সরকার এবং ভ্যানগার্ডের মতো বড় সংস্থাও। ব্যাঙ্কের ৪.৭৭ শতাংশ শেয়ারের মালিক এলআইসি এই পতনে বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন। এছাড়া এসবিআই নিফটি ৫০ ইটিএফ এবং আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল লার্জ ক্যাপ ফান্ডের মতো মিউচুয়াল ফান্ডগুলিও এই ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ব্রোকারেজ হাউসের সতর্কতা: বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীর্ষ স্তরের এই ডামাডোল ব্যাঙ্কের ‘রি-রেটিং’ প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দেবে। ‘অ্যান্টিক স্টক ব্রোকিং’ এই শেয়ারের টার্গেট প্রাইস ১২০০ টাকা থেকে কমিয়ে ১০৯০ টাকা করেছে। অন্যদিকে ‘এমকে গ্লোবাল’-এর মতে, ২০২০ সাল থেকেই নানা নিষেধাজ্ঞার জেরে লড়াই করছে ব্যাঙ্কটি। এখন বোর্ডের স্থিতিশীলতা এবং স্থায়ী নেতৃত্বই পারে বিনিয়োগকারীদের মনে ভরসা ফেরাতে। আগামী কয়েক মাস HDFC ব্যাঙ্কের জন্য অত্যন্ত অগ্নিপরীক্ষার হতে চলেছে।