সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি না কি অস্বস্তি? পেট্রোলের নতুন দাম ঘোষণা করল তেল সংস্থাগুলি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মহার্ঘ্য হলো পেট্রোল এবং ডিজেল। তবে এখনই সাধারণ মধ্যবিত্তের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ এই মূল্যবৃদ্ধি আপাতত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে শুধুমাত্র ‘প্রিমিয়াম’ জ্বালানির ক্ষেত্রে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়েছে এই নতুন দাম।

কত বাড়ল দাম? রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL) জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা থেকে ২ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান অয়েলের XP95 এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের Power পেট্রোলের মতো হাই-অক্টেন জ্বালানি। পাশাপাশি, বড় ধাক্কা লেগেছে শিল্পক্ষেত্রেও। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৮৭.৬৭ টাকা থেকে একলাফে বেড়ে হয়েছে ১০৯.৫৯ টাকা

কেন এই মূল্যবৃদ্ধি? ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যকার উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যদিও তেল সংস্থাগুলি আশ্বস্ত করেছে যে ভারতে ক্রুড অয়েলের জোগানে কোনও ঘাটতি নেই এবং অতিরিক্ত কার্গো আনা হচ্ছে, তবুও বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাব এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব: ভালো খবর এই যে, সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বর্তমানে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে বাস বা ট্যাক্সির ভাড়া এখনই বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে দুশ্চিন্তার ভাঁজ অটো চালকদের কপালে। অটোর জ্বালানির (CNG/LNG) দাম গত সপ্তাহেই ৫ টাকা বেড়েছিল, যা এই সপ্তাহে আরও ৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রিমিয়াম পেট্রোল মূলত দামি গাড়ি ও বাইকের ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়, তাই বিত্তবান শ্রেণির ওপর এই খরচের বোঝা সরাসরি চাপলেও সাধারণ যাত্রীবাহী পরিবহনে এর প্রভাব এখনই পড়ছে না।