দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’: সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আর বেকারদের জন্য হাতখরচ! ভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক মমতার

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আর ভোটের ঠিক মুখেই ‘বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’ শীর্ষক ইস্তেহার প্রকাশ করে বড় চমক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেলে কালীঘাটে ৬টি ভাষায় এই ইস্তেহার প্রকাশ করেন তিনি। ঈদের পর থেকেই কোমর বেঁধে প্রচারে নামার ঘোষণা করে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, এবারের লড়াইয়ে উন্নয়নের হাতিয়ারেই বাজিমাত করতে চায় ঘাসফুল শিবির।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবার সারাজীবনের জন্য: ইস্তেহারের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের জন্য বড় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়িয়েছি। সাধারণ মহিলারা ১৫০০ এবং তফশিলি জাতি-উপজাতিরা ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। বিরোধীরা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু আমরা করে দেখিয়েছি। এই প্রকল্প সারাজীবন চলবে। বয়স বাড়লে এটি বিধবা বা বার্ধক্য ভাতার সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে।”

বেকার ভাতা নয়, ‘হাতখরচ’: যুবশক্তির মন জয়ে এক অভিনব প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রাজ্যের প্রায় ১ কোটি যুবক-যুবতীকে মাসে ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মমতা বলেন, “একে বেকার ভাতা বলবেন না। মাধ্যমিক পাশ করা ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার ফাঁকে বা চাকরির আগে পর্যন্ত হাতখরচ হিসেবে এই টাকা পাবে। ইতিমধ্যেই বাংলায় বেকারত্ব ৪০ শতাংশ কমেছে, আমরা ২ কোটি কর্মসংস্থান করেছি।”

শিল্প ও বাণিজ্যে নয়া দিশা: ইস্তেহারে বাংলার অর্থনৈতিক অগ্রগতির রূপরেখা তুলে ধরে জানানো হয়েছে, দেউচা পাঁচামি কয়লা খনি প্রকল্প চালু হলে আগামী ১০০ বছর বিদ্যুৎ নিয়ে চিন্তা থাকবে না। রঘুনাথপুরে ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে। এছাড়া রাজ্যে লেদার হাব, সিমেন্ট হাব এবং পাওয়ার হাব তৈরির মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পিপিপি মডেলের শপিং মলগুলিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের জন্য আলাদা ফ্লোর রাখার কথাও বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ ক্যাম্প করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি ব্লক ও টাউনে এই ক্যাম্প হবে। এছাড়া কয়েক হাজার স্কুলের আধুনিকীকরণ এবং আগামী দিনে রাজ্যে আরও ৭ থেকে ১০টি নতুন জেলা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে ইস্তেহারে। নিয়োগ নিয়ে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষক নিয়োগ করতে চাই, কিন্তু বিরোধীরা মামলা করে আটকে দিচ্ছে।”