“রেকর্ড ভেঙে চুরমার!”-ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার রেকর্ড পতন; কীসের ইঙ্গিত?

ভারতীয় মুদ্রার বাজারে বড়সড় ধস। শুক্রবার ডলারের তুলনায় রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেল ভারতীয় রুপি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি, বিশ্ববাজারে ডলারের ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির জোড়া ফলায় বিদ্ধ দেশের অর্থনীতি। দিন শেষে ডলার প্রতি রুপির দাম ৮২ পয়সা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩.৭১ টাকা, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বনিম্ন।
কেন এই রেকর্ড পতন?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ রুপির এই পতনের পিছনে দায়ী:
-
জ্বালানি তেলের জ্বালা: আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৯ ডলার ছাড়িয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের বড় অংশ আমদানি করে, ফলে তেলের দাম বাড়লে রুপির ওপর চাপ বাড়ছে।
-
ডলারের শক্তি: বিশ্বজুড়ে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার পাশাপাশি রুপিও দুর্বল হচ্ছে।
-
বিদেশি বিনিয়োগ: বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে ক্রমাগত টাকা তুলে নেওয়ায় মুদ্রার মান কমছে।
১০০-র দিকে কি এগোচ্ছে রুপি?
এলকেপি সিকিউরিটিজের বিশেষজ্ঞ জতীন ত্রিবেদীর মতে, “তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকলে ভারতের আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। স্বল্পমেয়াদে রুপি ৯৩ থেকে ৯৪.২৫-এর ঘরে ঘোরাফেরা করতে পারে।”
আরও আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে অ্যাম্বিট ক্যাপিটাল। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, যদি অপরিশোধিত তেল ব্যারেল প্রতি ৯০-১১০ ডলারের মধ্যে থাকে, তবে আগামী এক বছরে রুপির মান ৯৭.৫ থেকে ৯৮.৯ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। অর্থাৎ, ১০০-র মাইলফলক ছোঁয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
রুপির এই পতনের সরাসরি প্রভাব পড়বে আমজনতার পকেটে। ১. বিদেশ ভ্রমণ এবং বিদেশে পড়াশোনার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। ২. মোবাইল, ল্যাপটপ এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম বাড়তে পারে। ৩. ভোজ্য তেল এবং জ্বালানি আমদানির খরচ বাড়লে বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।