প্রশাসনিক আমূল বদল! নতুন জেলা ও পুরসভা গঠনের প্রতিজ্ঞা তৃণমূলের, লক্ষ্য সরকারি পরিষেবার গতি বৃদ্ধি

শুক্রবার কালীঘাটের কার্যালয় থেকে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্বাচনী ইশতেহার ‘প্রতিজ্ঞা’ প্রকাশ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি এবারের ইশতেহারে সবথেকে বড় চমক হলো রাজ্যের প্রশাসনিক মানচিত্রে বড়সড় রদবদল। সরকারি পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে সাতটি নতুন জেলা এবং ২৫টি মডেল শহর তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
৭টি নতুন জেলা গঠনের ঘোষণা: বিদ্যমান জেলা প্রশাসনগুলির ওপর চাপ কমাতে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৃণমূল নেত্রী যে সাতটি নতুন জেলা গঠনের কথা জানিয়েছেন, সেগুলি হলো:
-
কান্দি
-
বহরমপুর
-
বিষ্ণুপুর
-
সুন্দরবন
-
রানাঘাট
-
ইছামতী
-
বসিরহাট
‘মিশন মহানগর’: ২৫টি মডেল শহর শহরাঞ্চলের পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে ‘মিশন মহানগর’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে ঘাসফুল শিবির। পশ্চিমবঙ্গের ২৫টি প্রধান শহরকে অত্যাধুনিক নাগরিক সুবিধা-সহ ‘মডেল শহর’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই তালিকায় রয়েছে: হাওড়া, ডায়মন্ড হারবার, বর্ধমান, দুর্গাপুর, বোলপুর, কৃষ্ণনগর, বারাসাত, রায়গঞ্জ, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, মালদহ, কল্যাণী, শ্রীরামপুর, অণ্ডাল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দিঘা, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, এনকেডিএ (NKDA) এলাকা, গঙ্গারামপুর, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং দার্জিলিং।
কেন এই পরিবর্তন? ইশতেহারে জানানো হয়েছে, রাজ্যের জনসংখ্যার আমূল পরিবর্তনের ফলে অনেক পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এই ‘ভৌগোলিক পুনর্গঠন’-এর মাধ্যমে জনতা ও প্রশাসনের অনুপাত বজায় রাখা হবে, যাতে সরকারি কাজ আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়। এর পাশাপাশি নতুন পুরসভা গঠনের প্রক্রিয়াও চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।