“ঘরে আসবে ডাক্তার, পাশে থাকবে সরকার!” মমতার ১০ প্রতিজ্ঞায় ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ ও প্রবীণদের জন্য বিশেষ উপহার

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজিয়ে ফেলল তৃণমূল কংগ্রেস। আজ কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচনী ইশতেহার ‘প্রতিজ্ঞা’ প্রকাশ করলেন। সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানকে হাতিয়ার করে ১০টি মূল অঙ্গীকারের মাধ্যমে চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী।

‘দুয়ারে সরকার’-এর পর এবার ‘দুয়ারে চিকিৎসা’: ইশতেহারের সবথেকে বড় চমক হলো ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে প্রতি বছর ব্লক ও শহরভিত্তিক বিশেষ স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হবে। সাধারণ মানুষকে আর হাসপাতালের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না, বরং বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাই পৌঁছে যাবেন মানুষের দোরগোড়ায়।

একাকী প্রবীণদের জন্য ‘যত্নের আশ্বাস’: বাংলার ঘরে ঘরে অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা রয়েছেন যাঁদের সন্তানরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। এই নিঃসঙ্গ প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল। তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনে সরকার সহায় হয়ে দাঁড়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, “প্রবীণদের পাশে, যত্নের আশ্বাসে— এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বেকার ভাতার ধামাকা: নারীকল্যাণে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতা বৃদ্ধির কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সাধারণ মহিলাদের জন্য ১৫০০ টাকা এবং SC/ST মহিলাদের জন্য ১৭০০ টাকা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি যুবক-যুবতীর জন্য মাসিক ১৫০০ টাকা ‘হাতখরচ’ বা বেকার ভাতার ঘোষণা করেছেন নেত্রী, যা চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

শিল্প ও কর্মসংস্থানের ব্লু-প্রিন্ট: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “বেঙ্গল ইজ দ্য ডেস্টিনেশন ফর ইন্ডাস্ট্রি।” দেউচা পাঁচামি ও রঘুনাথপুরে ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের দিশা দেখিয়েছেন তিনি। এছাড়াও আবাসন যোজনায় সমস্ত কাঁচা বাড়িকে পাকা করে দেওয়া এবং আগামী দিনে ৭ থেকে ১০টি নতুন জেলা গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এই ইশতেহারে।