‘বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে গিয়েছে,’-এবার গুরুতর দাবি করলেন মমতা

ভোটের দামামা বাজার মাঝেই রাজ্যে ‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারি হয়ে গিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দলের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তিনি বলেন, দেশে এখন কোনও সংবিধান নেই, চলছে গায়ের জোরে শাসন।

‘অঘোষিত প্রেসিডেন্ট রুল’ ও কমিশনের ভূমিকা

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, মুখে ঘোষণা না করলেও কাজের মাধ্যমে বাংলায় ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি শাসন কার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির তোতাপাখি’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ভোটের মুখে বাংলার দক্ষ অফিসারদের ভিন রাজ্যে বদলি করা হচ্ছে? মমতা বলেন, “PWD বা খাদ্য দপ্তরের সচিবদের সরিয়ে দিলে ঝড়-বৃষ্টিতে রাস্তা ভাঙলে বা রেশন বন্ধ হলে মানুষ খাবে কী? ভিন রাজ্যের অফিসাররা কি বাংলার ব্লক বা সাব-ডিভিশন চেনেন?” তাঁর আশঙ্কা, সীমান্ত দিয়ে টাকা ও অস্ত্র ঢোকাতেই বাংলার IPS-দের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিভাজন ও ডিলিমিটেশন নিয়ে বড় আশঙ্কা

এদিন আরও একধাপ এগিয়ে মমতা দাবি করেন, উত্তরবঙ্গ ও বিহারের একাংশ নিয়ে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গড়ার চক্রান্ত করছে কেন্দ্র। তাঁর বক্তব্য:

  • ২০২৯-এর ভয়: বিজেপি জানে তারা ২০২৯-এ ফিরবে না, তাই আগেভাগেই ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্বিন্যাসের নামে মানুষকে সর্বহারা করার ছক কষছে।

  • দুই ভাইয়ের শাসন: “মোদী আর অমিত শাহ—এই দুই ভাই মিলে যুদ্ধ আর চক্রান্ত করে দেশটা দখল করেছে,” বলে তোপ দাগেন তিনি।

‘মোদী হটাও, দেশ বাঁচাও’ ডাক

সংবিধান ও বিচারব্যবস্থা বিপন্ন দাবি করে মমতা দেশবাসীকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় বা টাকার প্রলোভনে পা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাকে বাঁচাতে হলে, বাংলার মেধা ও অস্মিতা রক্ষা করতে হলে বিজেপিকে শিক্ষা দিতেই হবে। মোদীর হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”