১ কেজি কাঠ পোড়ালে ২ কেজি বিষাক্ত গ্যাস! এলপিজির বদলে কেন সোলার ও ইন্ডাকশনই সেরা বিকল্প?

আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও এলপিজি সিলিন্ডারের চড়া দামের কারণে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে ফিরছে আদিম আমলের কাঠের উনুন। শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই রান্নার গ্যাসের জোগান ও খরচ নিয়ে নাজেহাল মধ্যবিত্ত ও রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতারা বাধ্য হয়ে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করছেন। কিন্তু এই পরিবর্তন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য যে কত বড় অশনি সংকেত, তা নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্যের ওপর চরম আঘাত: পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠের ধোঁয়ায় থাকা সূক্ষ্ম কণা পদার্থ (PM2.5), কার্বন মনোক্সাইড এবং ব্ল্যাক কার্বন সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে। দীর্ঘ সময় আগুনের পাশে থাকলে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা এবং ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD)-এর মতো মারণ রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অধ্যাপক পুরুষোত্তম রেড্ডি সতর্ক করে জানিয়েছেন, কাঠের ধোঁয়া তামাকের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে ফুসফুসের কোষের জন্য।
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট: পরিবেশ বিজ্ঞানীরা একটি ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, মাত্র ১ কিলোগ্রাম জ্বালানি কাঠ পোড়ালে প্রায় ১.৮ থেকে ২ কিলোগ্রাম কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গত হয়। কোনো বাণিজ্যিক রান্নাঘরে ১০০ কেজি কাঠ পুড়লে বাতাসে মিশছে প্রায় ২০০ কেজি বিষাক্ত গ্যাস, যা গ্রিনহাউস এফেক্ট ও বিশ্ব উষ্ণায়নকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের চেষ্টায় রান্নায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির (Clean Fuel) যে অগ্রগতি হয়েছিল, এই প্রবণতা তাকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
বিকল্প সমাধান কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হলো সৌরশক্তি এবং ইন্ডাকশন কুকার। বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে রান্না করলে তা একদিকে যেমন সাশ্রয়ী, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব। জ্বালানি কাঠের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বনাঞ্চল ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করবে। তাই এখন থেকেই পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির দিকে ঝোঁকা জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।