বিজেপি নেতাকে ফোন করে দল ভাঙানোর চেষ্টা? ওসির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য নিয়ে থানায় বিরোধী দলনেতা

লোকসভা ভোটের আবহে এবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল থানা। সরাসরি থানার ভেতরে ঢুকে ডিউটি অফিসারের সামনেই পুলিশকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ উঠেছে, টিকিট না পেয়ে ‘অভিমানী’ হওয়া বিজেপি নেতা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে তৃণমূলের হয়ে দল ভাঙানোর চেষ্টা করেছেন মহিষাদল থানার ওসি পীযূষ মণ্ডল।

ঘটনার সূত্রপাত বিজেপির প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পর। ২০২১-এর মহিষাদল বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে আসরে নামে পুলিশ ও তৃণমূল। এদিন বিশ্বনাথবাবুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন শুভেন্দু। সেখান থেকে বেরিয়েই সোজা পৌঁছে যান মহিষাদল থানায়।

থানায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর হুঙ্কার: থানায় ওসি না থাকলেও কর্তব্যরত অফিসারের সামনেই মেজাজ হারান শুভেন্দু। সিসিটিভি ক্যামেরার দিকে আঙুল দেখিয়ে তিনি বলেন, “সতর্ক করে দিয়ে গেলাম। ওসি হোয়াটস অ্যাপ কল করে আমাদের নেতাকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। মনে রাখবেন, বেতন তৃণমূল দেয় না, ট্যাক্সের টাকায় বেতন পান। উর্দ্ধিতে অশোক স্তম্ভ লাগানো আছে, চটি চাটা বন্ধ করুন।” তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত কলের রেকর্ডিং তাঁকে দিয়েছেন এবং নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি (MCC) চালুর পর পুলিশের এই ভূমিকা একেবারেই মেনে নেওয়া হবে না।

তৃণমূল ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি নেই বলেই তারা পুলিশ ও আইপ্যাককে (I-PAC) ব্যবহার করে দল ভাঙানোর খেলা খেলছে। তাঁর অভিযোগ, নন্দীগ্রামের আইসি এবং তমলুকের এসডিপিওর বিরুদ্ধেও একই ধরণের প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সুর নরম করে বলেন, “দাদা এসেছিলেন, অভিমান মিটেছে। আমি মোদিজি ও বিজেপিকেই ভালোবাসি।”

এই ঘটনায় জেলা পুলিশ বা অভিযুক্ত ওসির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভোটের মুখে পুলিশের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর এই সরাসরি ‘অ্যাটাক’ মেদিনীপুরের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।