জঙ্গলমহলে কুড়মি কার্ডে কুপোকাত হবে তৃণমূল? জয়পুরে বিশ্বজিৎকে নামিয়ে অমিত শাহর ‘মাস্টারস্ট্রোক’!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণ এক লহমায় বদলে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। শুক্রবার পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রে কুড়মি আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা অজিত প্রসাদ মাহাতোর ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতোকে প্রার্থী ঘোষণা করে কার্যত এক ঢিলে দুই পাখি মারল গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে অজিত মাহাতোর গোপন বৈঠকের পরেই এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ সাজানো হয়েছে।

২০২১ সালে পুরুলিয়ার ৯টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জিতেছিল বিজেপি। এবার তাদের লক্ষ্য ‘ক্লিন সুইপ’ বা ৯-এ-৯। আর সেই লক্ষ্যপূরণে জঙ্গলমহলের সবচেয়ে বড় ভোটব্যাঙ্ক অর্থাৎ কুড়মি সমাজকে নিজেদের পালে টানতে বিশ্বজিৎ মাহাতোর ওপর ভরসা রাখল দল। দীর্ঘদিন ধরে তফশিলি জনজাতির (ST) মর্যাদার দাবিতে আন্দোলনরত কুড়মি সমাজের ক্ষোভকে শাসকদলের বিরুদ্ধে হাতিয়ার করতে চাইছে বিজেপি। জয়পুরে নিজেদের ঘরোয়া প্রার্থীর বদলে আন্দোলনের মুখকে সামনে আনা আসলে কুড়মি আবেগকে স্বীকৃতি দেওয়ারই কৌশল।

প্রার্থিপদ পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী বিশ্বজিৎ মাহাতো স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এতদিন রাস্তায় থেকে কুড়মি সমাজের জন্য লড়েছি, এবার বিধানসভায় গিয়ে সেই লড়াই জারি রাখব।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে তাদের যুব মুখ অর্জুন মাহাতোর ওপর ভরসা রেখেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সরকারি উন্নয়নই তাদের প্রধান হাতিয়ার। তবে বিজেপির এই ‘কুড়মি কার্ড’ যে জঙ্গলমহলের ঘাসফুল শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া করেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, জঙ্গলমহলের ভূমিপুত্ররা ব্যালট বক্সে ‘পদ্ম’ ফোটান নাকি ‘জোড়া ফুলে’ই আস্থা রাখেন।