“হাতুড়ি মেরেও দরজা খুলছিল না”-জেনেনিন ঠিক কী ঘটেছিল R.G Kar-এর লিফ্টে?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফের এক নারকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। শুক্রবার ভোরে ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফটে আটকে পড়ে মৃত্যু হলো ৪০ বছর বয়সী অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মৃত ব্যক্তি দমদমের বাসিন্দা। চার বছরের অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা করাতে এসে খোদ বাবার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

স্ত্রী-সন্তানের চোখের সামনেই বিপর্যয় ভোর ৫টা নাগাদ অরূপবাবু তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে লিফটে করে পাঁচতলায় যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্ত্রী ও সন্তান লিফট থেকে বেরোতে পারলেও যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে অরূপবাবু ভেতরে আটকে পড়েন। হঠাৎ এক তীব্র ঝাঁকুনির পর লিফটি উপরে না উঠে সরাসরি বেসমেন্টে আছড়ে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ লিফটের ভেতরেই পড়ে ছিল দেহটি। অভিযোগ, বারবার হোমগার্ড ও সিকিউরিটিদের জানানো হলেও কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।

‘এটি সরাসরি খুন!’— গর্জে উঠলেন শুভেন্দু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি একে ‘খুন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “যে লিফট রক্ষণাবেক্ষণের অধীনে ছিল, তাতে রোগীকে চড়তে দেওয়া হলো কেন?” বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে এর পূর্ণ দায় রাজ্য সরকারকে নিতে বলেছেন।

প্রশাসনিক গাফিলতি স্বীকার অতীন ঘোষের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য অতীন ঘোষ মেনে নিয়েছেন এটি প্রশাসনিক গাফিলতি। তিনি বলেন, “হাসপাতালের সুপারভাইজারকে এর দায় নিতেই হবে।” পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী সোমবার জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিবাদী চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো এই ঘটনার প্রতিবাদে রোগী ও পরিজনদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাফাই হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চিৎকার শুনে উদ্ধারকারীরা বেসমেন্টে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করেন। সেই সময় লিফটে কোনো অপারেটর ছিল না কেন, সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। তবে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বর্তমানে আরজি কর চত্বরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।