“নারী পাচারে বাংলা সেরা, লজ্জিত মুখ্যমন্ত্রী!” টিকিট পেয়েই বিস্ফোরক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, ওলটপালট সমীকরণ!

বঙ্গ রাজনীতির পারদ চড়ল আরও কয়েক ধাপ। বিজেপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় বড় চমক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়বেন এই হেভিওয়েট নেত্রী। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের তারকা বিধায়ক লাভলি মৈত্র। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ। ইটিভি ভারতের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, বাংলা এখন ‘সংস্কারের’ অপেক্ষায়।
রাজনৈতিক লড়াই ও ব্যক্তিগত সংযোগ
সোনারপুর দক্ষিণের সঙ্গে রূপার দীর্ঘদিনের পরিচয়। তিনি জানান, “এলাকাটা আমার বহু বছরের চেনা। ওখানে আমার বাসস্থান আছে। জয়ী হলে মানুষ আমাকে নিয়মিত হাতের কাছে পাবেন।” উদবাস্তু পরিবারের সন্তান হিসেবে রূপার লড়াইয়ের ইতিহাস দীর্ঘ। টালিগঞ্জে বড় হওয়া এই অভিনেত্রী প্রথম বাড়ি কিনেছিলেন সোনারপুরেই। ফলে বহিরাগত তকমা তাঁর গায়ে লাগছে না।
নারী সুরক্ষা ও ‘অভয়া’ ইস্যু
আরজি কর কাণ্ড নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন রূপা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি বলেন, “লজ্জার বিষয় যে নারীদের প্রতি অন্যায়ের বিচার এখানে হয় না। খোদ মহিলা মুখ্যমন্ত্রী যখন নির্যাতিতার চরিত্র বা প্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন অপরাধীরা প্রশ্রয় পায়।” নারী ও শিশু পাচারে বাংলা এগিয়ে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি অভয়ার মায়ের ভোটে লড়া প্রসঙ্গে বলেন, “ওঁর সাহসকে কুর্নিশ জানাই। সত্য উদঘাটনের এই যুদ্ধে তিনি আমাদের সঙ্গেই আছেন।”
উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের স্বপ্ন
রূপার নিশানায় ছিল সিন্ডিকেট ও কাটমানি সংস্কৃতি। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ বাংলা চাই যেখানে রাজনীতি রোজগারের উপায় হবে না। কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছে না কারণ এখানে কৃষি আইন লাগু হয়নি। দালালি বন্ধ হলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা শান্তিতে থাকতে পারবে।” বিধায়ক হলে এলাকার রাস্তাঘাট ও জল সমস্যার সমাধানে জোর দেবেন বলে জানান তিনি।
সবশেষে রূপা জানান, রাজনীতির জন্য একটি হিন্দি ছবির কাজও তিনি স্থগিত রেখেছেন। তাঁর লক্ষ্য একটাই— “পশ্চিমবঙ্গে মানুষের সরকার গড়া, কোনও বিশেষ দলের নয়।”