বাংলায় ভোটের আগেই রণক্ষেত্র! কমিশনকে নজিরবিহীন আক্রমণ মমতার, তুঙ্গে সংঘাত

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন টগবগ করে ফুটছে। একদিকে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কড়া দাওয়াই, অন্যদিকে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বেনজির ক্ষোভ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার কমিশনের কাজের ধরন নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে আবারও চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যেখানে তিনি সরাসরি সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবারের ভোটে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। কলকাতার হাই-ভোল্টেজ বৈঠক থেকে কমিশন ৫টি মূল স্তম্ভের ওপর জোর দিয়েছে: ১. সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত ভোট প্রক্রিয়া, ২. ছাপ্পা ভোটের অবসান, ৩. বুথ জ্যামিং রুখে দেওয়া, ৪. ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং ৫. প্রলোভন বা অর্থের প্রভাব কঠোরভাবে দমন করা। কমিশনের বার্তা পরিষ্কার—অবাধ ও স্বচ্ছ ভোটই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য।

তবে কমিশনের এই সক্রিয়তাকে মোটেও ভালো চোখে দেখছে না শাসকদল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিন্দুমাত্র আলোচনা না করেই একের পর এক প্রশাসনিক রদবদল করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ আধিকারিকদের সরিয়ে প্রশিক্ষণহীনদের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও তাঁর দাবি। এমনকি এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর মতে, বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই কমিশন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা আদতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করছে। কমিশনের কড়া নজরদারি বনাম রাজ্য সরকারের আইনি লড়াই—ভোটের আগে এই দ্বৈরথ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।