“ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে”-লিফলেট হাতে বাড়ি বাড়ি প্রচার, বড় টার্গেট তৃণমূলের

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা ভোটের আগে খাস তালুক ভবানীপুরকে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করতে কোমর বেঁধে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালের ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগান সুপারহিট হওয়ার পর, এবার ঘরের মাঠের জন্য সম্পূর্ণ নতুন রণকৌশল সাজাল ঘাসফুল শিবির। এবারের মূল মন্ত্র— ‘উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’

বৈঠকের মাঝে মমতার জরুরি ফোন! বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে তৃণমূলের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে হাজির ছিলেন সুব্রত বক্সী, ফিরহাদ হাকিম এবং জয়প্রকাশ মজুমদারের মতো হেভিওয়েট নেতারা। দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠক চলাকালীনই হঠাৎ ফোন করেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, প্রচারের রূপরেখা নিয়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মিসভা, পথসভা আর লিফলেট বিলির মাধ্যমে মানুষের ড্রয়িংরুম পর্যন্ত পৌঁছনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের কর্মীদের।

রেকর্ড ব্যবধানই লক্ষ্য গতবার ভবানীপুরে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ৫৮ হাজার। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েছেন ফিরহাদ হাকিমরা। যদিও ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তবে তৃণমূল নেতৃত্ব তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়। উল্টে ‘ঘরের মেয়ে মমতা’ আবেগকে কাজে লাগিয়েই বাজিমাত করতে চাইছে দল।

শান্তিপূর্ণ প্রচারের কড়া দাওয়াই বৈঠকে স্থানীয় কাউন্সিলর ও কর্মীদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিরোধীদের কোনো প্ররোচনায় পা দেওয়া যাবে না। উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান নিয়ে বিনম্রভাবে মানুষের দরজায় যেতে হবে। শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কোনো ফাঁক রাখতে রাজি নয় নবান্ন।

সব মিলিয়ে, ভোট ঘোষণার পর থেকেই ভবানীপুরের পারদ চড়তে শুরু করেছে। এখন দেখার, ‘ঘরের মেয়ে’র এই নতুন স্লোগান ভোটারদের মনে কতটা জায়গা করে নেয়।