SIR-নিয়ে উত্তেজনা চরমে! ২৫ লক্ষ ভোটারের তালিকায় বড় কোপ? থমকে গেল তালিকা প্রকাশ

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে বাড়ছে স্নায়ুর চাপ। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় এবার নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। সম্ভাব্য গণ-অসন্তোষ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রুখতে শুক্রবারের নির্ধারিত সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ আপাতত এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্ট ও প্রশাসনের মেগা বৈঠক সূত্রের খবর, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের ডিজিপি সিদ্ধ নাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দের মধ্যে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় আধ ঘণ্টার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং তার জেরে উদ্ভূত সম্ভাব্য হিংসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সামনেই একটি বড় ধর্মীয় উৎসব থাকায় কোনোভাবেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।
কতজনের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা? তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম দফায় ২০ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ করার কথা ছিল। তবে জেলা স্তরের সূত্রগুলি দাবি করছে, ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ বা টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে যাচাইকৃত ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশের নাম শেষ পর্যন্ত বাতিল হতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় ৬.৪৪ কোটি ভোটারের নাম থাকলেও, প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন ঝুলে ছিল। বর্তমানে ৭০০-র বেশি বিচার বিভাগীয় আধিকারিক দিন-রাত এক করে এই জট ছাড়ানোর কাজ করছেন।
কমিশনের কড়া পদক্ষেপ নির্বাচনের আগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বাংলার প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে রাজ্যের ৫ জন জেলাশাসককে (DM) পর্যবেক্ষক হিসেবে তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কোনো প্রভাব কাজ না করে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ: পশ্চিমবঙ্গে এবার ভোট হচ্ছে দুই দফায়— ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন অর্থাৎ ৬ এবং ৯ এপ্রিল পর্যন্ত তালিকায় নাম তোলার সুযোগ থাকছে। ফলে হাতে সময় কম থাকায় এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া প্রশাসনের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।