মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা! ইরানকে চারদিক দিয়ে ঘেরার ছক ট্রাম্পের?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হলো। কাতারের অন্যতম বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এবার সরাসরি সেনা মোতায়েনের পথে হাঁটছে আমেরিকা। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, ইরানকে চূড়ান্ত শিক্ষা দিতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আধিপত্য কায়েম করতে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের তিন তুরুপের তাস: সূত্রের খবর, ইরানকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে পঙ্গু করে দিতে ট্রাম্পের হাতে রয়েছে তিনটি বড় পরিকল্পনা:

  • হরমুজ প্রণালী উদ্ধার: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ পথকে ইরানি প্রভাবমুক্ত করতে চাইছে আমেরিকা।

  • খর্গ দ্বীপে হানা: ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয় এই দ্বীপ থেকে। এখানে অভিযান চালিয়ে ইরানের আয়ের উৎস বন্ধ করাই লক্ষ্য।

  • উপকূলীয় অবরোধ: ইরানের উপকূল বরাবর মার্কিন সেনা মোতায়েন করে তেহরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা চলছে।

পরমাণু ভাণ্ডার দখলের ঝুঁকি: রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের আসল লক্ষ্য ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার এবং পরমাণু কেন্দ্রের দখল নেওয়া। তবে এই অভিযানে মার্কিন সেনার প্রাণের ঝুঁকি প্রবল থাকায় এখনও চূড়ান্ত সিলমোহর দেননি ট্রাম্প। এদিকে ওয়াশিংটনের হাই-প্রোফাইল সেনাঘাঁটির ওপরে রহস্যময় ড্রোনের আনাগোনা মার্কিন গোয়েন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

কাতারের ক্ষোভ ও ট্রাম্পের পাল্টা হুঁশিয়ারি: নিজেদের এলএনজি (LNG) রপ্তানি কেন্দ্রে ইরানের ৫টি মিসাইল হামলার তীব্র নিন্দা করেছে কাতার। একটি মিসাইল সরাসরি গ্যাসের ঘাঁটিতে আছড়ে পড়ায় বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্রাম্প এই ঘটনার পর গর্জে উঠে বলেছেন, “ফের হামলা হলে আমেরিকা ভয়ংকর পদক্ষেপ করবে।” যদিও বুধবার ইরানের ‘সাউথ পার্স’ গ্যাস কেন্দ্রে ইজরায়েলের হামলার দায় ঝেড়ে ফেলেছে আমেরিকা। ট্রাম্পের দাবি, ইজরায়েল একক সিদ্ধান্তেই ওই হামলা চালিয়েছে, যার পাল্টা প্রত্যাঘাত করে এখন আমেরিকার রোষের মুখে পড়েছে ইরান।