“RSS-এর শেখানো বুলি বলছেন নির্যাতিতার বাবা!”-কেন এমন বললেন মহম্মদ সেলিম? তুঙ্গে বিতর্ক

আরজি কর আবহে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড়। নির্যাতিতার পরিবারের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিজেপির প্রতি তাঁদের ঝোঁক নিয়ে এবার চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বৃহস্পতিবার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি ব্যবহার করলেন এক বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক শব্দ— ‘স্টকহোম সিনড্রোম’

স্টকহোম সিনড্রোম ও নির্যাতিতার পরিবার

এদিন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সাংবাদিক বৈঠকে সেলিম দাবি করেন, নির্যাতিতার পরিবার বর্তমানে এক অদ্ভুত বিভ্রান্তির শিকার। তিনি বলেন, “অনেক সময় অপরাধীদের প্রতি মমত্ব তৈরি হয়ে যায়, যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্টকহোম সিনড্রোম’ বলে। আমরা তার মধ্যে নেই।” সেলিমের এই মন্তব্যের ইঙ্গিত স্পষ্ট— যারা একসময় তথ্যপ্রমাণ লোপাটে মদত দিয়েছিল বা যারা সঠিক বিচার দিতে ব্যর্থ, তাদের প্রতিই নির্যাতিতার পরিবার এখন সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ছে।

“ওটা আরএসএস-এর শেখানো বুলি”

সম্প্রতি নির্যাতিতার বাবা অভিযোগ করেছিলেন যে, বামেদের কারণেই রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এর কড়া জবাব দিয়ে সেলিম বলেন, “এগুলো আরএসএস-এর হোয়াটসঅ্যাপ পড়ে শেখানো বুলি। আরজি করের ভেতরে যখন নৃশংস ঘটনা ঘটেছিল, তখন মীনাক্ষীরাই প্রাণের বাজি রেখে গাড়ি আটকেছিল। তখন আমরা জানতামও না ওই মেয়েটি কার সন্তান। আমরা শুধু ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম।”

বিজেপি-তৃণমূল ‘সেটিং’ তত্ত্ব

মহম্মদ সেলিম এদিন সরাসরি অভিযোগ করেন যে, আরজি কর ইস্যুতে বিজেপি এবং তৃণমূল আদতে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাঁর যুক্তি:

  • নির্যাতিতার পরিবারকে দিল্লি নিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেখা মেলেনি।

  • সুপ্রিম কোর্ট শুধু চিকিৎসকদের ধর্মঘট তোলার চেষ্টা করেছে, প্রকৃত বিচার মেলেনি।

  • যে মুহূর্তে আন্দোলন স্তিমিত হয়েছে, সেই মুহূর্ত থেকেই বিজেপি ও তৃণমূল এক সুরে কথা বলছে।

আইনি লড়াই ও বামেদের অবস্থান

বাম নেতৃত্বের দাবি, তাঁরা কখনও পরিবারকে দলদাসে পরিণত করার চেষ্টা করেননি। পেশা বা ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ যখন রাস্তায় নেমেছিল, বামপন্থীরা কেবল সেই লড়াইকে সংহত করার চেষ্টা করেছে। সেলিমের কথায়, “আমাদের আইনজীবীরা বিনামূল্যে লড়াই করেছেন। কিন্তু এখন পরিবারের মনে হচ্ছে বড় আইনজীবী বা দিল্লি পাশে থাকলেই বিচার মিলবে। আমরা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না।”