শ্মশানকালীর মেলায় মুখোমুখি দিলীপ-প্রদীপ! সৌজন্যের করমর্দন না কি ভোটের চাল? তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

রাজনীতির ময়দানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। কিন্তু মেলা প্রাঙ্গণে হঠাৎ দেখা হয়ে গেলে কী হয়? খড়গপুর সদরের কৌশল্যার ঐতিহ্যবাহী শ্মশান কালীপুজোর মেলা সাক্ষী থাকল এমনই এক নজিরবিহীন মুহূর্তের। একদিকে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী দিলীপ ঘোষ, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রদীপ সরকার— যুযুধান দুই পক্ষের সৌজন্য বিনিময় বনাম স্লোগানের লড়াইয়ে সরগরম মেদিনীপুর।

সৌজন্যের ছবি না কি মেকি হাসি?
মেলার ভিড়ে হঠাৎই মুখোমুখি হন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। কিন্তু সৌজন্যে খামতি রাখলেন না দিলীপ ঘোষ। নিজেই এগিয়ে গিয়ে বাড়িয়ে দিলেন হাত। ভিড়ের মাঝেই চলল করমর্দন। যা দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগল— ভোটের লড়াই কি তবে শুধুই আদর্শের? ব্যক্তিগত সম্পর্ক কি তবে এখনও অটুট?

স্লোগান যুদ্ধে রণক্ষেত্র মেলা প্রাঙ্গণ:
সৌজন্যের ছবিটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। একদিকে বিজেপি কর্মীদের ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি, অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান— দুইয়ে মিলে মেলার পরিবেশ মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় মোতায়েন থাকা বিশাল পুলিশ বাহিনীকে।

আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ:
ঘটনার পর দিলীপ ঘোষ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বলেন, “রাস্তায় দেখা হলে কথা বলব না, তা কি হয়? আমি বিধায়ক ছিলাম, উনি চেয়ারম্যান। তবে শেষমেশ মানুষই ঠিক করবে কাকে জেতাবে।”

পাল্টা তোপ দাগতে ছাড়েননি প্রদীপ সরকারও। সৌজন্যের কথা স্বীকার করলেও স্লোগান নিয়ে বিঁধলেন গেরুয়া শিবিরকে। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, “কালী মন্দিরের সামনে জয় শ্রী রাম স্লোগান দেওয়া কি ঠিক? আজ রাম বেঁচে থাকলে তিনিও এই আচরণে লজ্জা পেতেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে এখন জেলাজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

নির্বাচনের আবহে কৌশল্যার এই পবিত্র মেলা যেন এখন রাজনৈতিক শক্তিবৃদ্ধির দাবার বোর্ড। খড়গপুর সদরের এই ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।