ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের কোপ এবার ইন্টারনেটে? সমুদ্রের তলায় মাইনের জাল, বন্ধ হতে পারে গুগল-ফেসবুক!

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ পা দিল তৃতীয় সপ্তাহে। আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন হামলার পর এবার যুদ্ধের ছায়া ঘনিয়েছে নীল জলরাশির অতল গভীরে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পাতা মাইনের জালে শুধু যে তেলের ট্যাঙ্কার আটকেছে তা নয়, এবার বড়সড় বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের সংযোগকারী ফাইবার-অপটিক কেবল।
কেন এই কেবল গুরুত্বপূর্ণ?
সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই কেবলগুলিই হলো আধুনিক বিশ্বের ধমনী। ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার মধ্যে ডিজিটাল ট্রাফিক বা ডেটা আদান-প্রদান হয় এই লাইনের মাধ্যমেই। ভিডিও কল থেকে শুরু করে ই-মেইল, ব্যাঙ্কিং লেনদেন থেকে সেনসিটিভ এআই (AI) পরিষেবা— সব কিছুই নির্ভর করে সমুদ্রের এই কেবলের ওপর।
ভারতের ওপর প্রভাব:
বিদেশের সঙ্গে ভারতের ডেটা সংযোগের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীর এই সাবমেরিন কেবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথে কোনো বিপর্যয় ঘটলে ভারতে ইন্টারনেট পরিষেবায় ধীরগতি বা সাময়িক স্থবিরতা দেখা দিতে পারে, যা প্রভাব ফেলবে ডিজিটাল পরিকাঠামোয়।
বিপদে টেক জায়ান্টরা:
আমাজন এবং মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টরা সৌদি আরব ও আরব আমিরশাহীতে কোটি কোটি ডলার খরচ করে ডেটা সেন্টার তৈরি করেছে। ওই অঞ্চলকে এআই-এর আন্তর্জাতিক হাব বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কিন্তু যুদ্ধের জেরে সমুদ্রের তলায় মেরামতির কাজ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সামান্য ভুলেই মাইন বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকায় কোনো বিশেষজ্ঞই এখন সেখানে নামতে সাহস পাচ্ছেন না।
অন্ধকারের আশঙ্কা:
বিশেষজ্ঞদের ভয়, তেহরান যদি যুদ্ধের কৌশল হিসেবে এই ইন্টারনেট কেবলগুলো অকেজো করে দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে ডেটা ধ্বংসের এক ভয়াবহ ছবি দেখা দেবে। তেলের সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে এই ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’। আপাতত সারা বিশ্ব চাতকের মতো তাকিয়ে আছে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির দিকে।