দার্জিলিং-কালিম্পং তো অনেক হলো! ভিড় এড়িয়ে এবার চলুন উত্তরবঙ্গের এই ‘গুপ্ত স্বর্গে’, যেখানে নদীই আপনার সঙ্গী

দেখতে দেখতে দহনবেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। আর কয়েকদিন পরেই স্কুল-কলেজে গরমের ছুটি। এই সময়টাতে শহরের কোলাহল আর প্যাচপ্যাচে গরম থেকে বাঁচতে বাঙালির প্রথম পছন্দই হলো উত্তরবঙ্গ। কিন্তু দার্জিলিং বা কার্শিয়াংয়ের চেনা ভিড়ে যারা আর যেতে চাইছেন না, তাঁদের জন্য এবার এক নতুন ঠিকানার হদিশ দিচ্ছে ডেইলিহান্ট— উত্তরবঙ্গের মায়াবী গ্রাম ‘মাজুয়া’।

কেন যাবেন মাজুয়া?
দার্জিলিংয়ের বিজনবাড়ির খুব কাছেই অবস্থিত এই স্বল্প পরিচিত গ্রামটি যেন প্রকৃতির কোলে এক শান্ত নিরালা কোণ। এখানে পৌঁছালেই আপনার কানে আসবে পাহাড়ি নদীর কুলকুল শব্দ। নদীর ধারে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিলেও ক্লান্তি আসবে না। চারিদিকে মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে রয়েছে সুগন্ধি এলাচ বাগান। সঙ্গে ঝাউ আর পাইন গাছের ঘন জঙ্গল— সব মিলিয়ে এক অপার্থিব প্রশান্তি।

কী কী করবেন এখানে?

প্রকৃতি ভ্রমণ: সকালে এখানে আপনার ঘুম ভাঙবে নাম না জানা পাহাড়ী পাখির কলকাকলিতে।

ট্রেকিং: যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এখানে ট্রেকিংয়ের দারুণ সুযোগ রয়েছে।

গ্রামের স্বাদ: প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখুন এই গ্রাম। এখানকার সহজ-সরল মানুষের জীবনযাত্রা আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

কীভাবে যাবেন?
কলকাতা বা শিয়ালদহ থেকে উত্তরবঙ্গগামী যেকোনো ট্রেনে চেপে সোজা পৌঁছে যান নিউ জলপাইগুড়ি (NJP)। সেখান থেকে শেয়ার গাড়ি বা পার্সোনাল গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যাওয়া যায় এই স্বর্গের ঠিকানায়।

থাকবেন কোথায়?
মাজুয়ায় পর্যটকদের জন্য এখন বেশ কিছু সুন্দর হোমস্টে গড়ে উঠেছে। যেখানে পাহাড়ের আতিথেয়তার পাশাপাশি মিলবে টাটকা অর্গানিক খাবার। তবে গরমের ছুটিতে ভিড় বাড়তে পারে, তাই পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে যাওয়ার আগে অগ্রিম বুকিং করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

শহরের কংক্রিটের জঙ্গল ছেড়ে এবার তবে ডানা মেলুন পাহাড়ের এই নির্জন কোলে।