মিষ্টি পানীয়র আড়ালে বিষ! আপনার প্রিয় কোল্ড ড্রিংকস কি ডেকে আনছে মানসিক রোগ? চাঞ্চল্যকর তথ্য

কাঠফাটা রোদে এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় বা এনার্জি ড্রিঙ্কস— সাময়িক তৃপ্তি দিলেও এর প্রতিটি চুমুকে লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য বিপদ। এতদিন চিনিযুক্ত পানীয়কে কেবল স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের কারণ হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। স্বাদে মিষ্টি এই পানীয়গুলো এবার সরাসরি প্রভাব ফেলছে মানুষের মনের ওপর।

চিনির আড়ালে অ্যাংজাইটির ফাঁদ:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক সমীক্ষা বলছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রতি সাতজন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগের শিকার। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় পান করার পর রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায় এবং পরক্ষণেই তা হুড়মুড়িয়ে নেমে যায়। শর্করার এই আকস্মিক ওঠা-নামা মস্তিষ্কে ডোপামিনের (Dopamine) ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। আর এই রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতাই ছোটদের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ এবং দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

টার্গেটে ছোটরা ও ভারতীয় বাজার:
ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঠান্ডা পানীয়র বাজার। নিত্যনতুন ফ্লেভার আর বিজ্ঞাপনের চটকদারিতে এই কৃত্রিম জুস ও কোল্ড ড্রিংকসের সবচেয়ে বড় অনুরাগী হয়ে উঠেছে শিশুরা। কিন্তু এই পানীয়গুলোতে থাকা অত্যাধিক চিনি এবং ক্ষতিকারক প্রিজারভেটিভ বাড়ন্ত বয়সের শিশুদের শরীরের অপূরণীয় ক্ষতি করছে।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
পুষ্টিবিদদের মতে, দুপুরের লাঞ্চের পর বা তৃষ্ণা মেটাতে কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার অভ্যাস নিজের অজান্তেই বিপদ ডেকে আনা। এটি কেবল লিভার বা হার্টের ক্ষতি করে না, বরং নিঃশব্দে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। তাই কৃত্রিম পানীয়র বদলে দেশি পানীয় বা ফলের রসে অভ্যস্ত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।