ভোটের বাজারে অ্যাকশনে কমিশন! ৮ ঘণ্টার ডেডলাইন, ভোটার তালিকায় বড় বদল

নির্বাচনী দামামা বাজার আগেই বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং ভোটারদের দুশ্চিন্তা কমাতে এবার কড়া সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশন। এখন থেকে ভোট সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ জমা পড়ার সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টার মধ্যেই তার নিষ্পত্তি করতে হবে। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতেই এই ‘সুপারফাস্ট’ পরিষেবা চালু করা হচ্ছে।
অভিযোগ জানাবেন কীভাবে?
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী বিধিভঙ্গ বা অন্য কোনও সমস্যা জানাতে ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে টোল-ফ্রি নম্বর ১৯৫০। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল—যে কেউ এই নম্বরে ফোন করে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। শুধু তাই নয়, দ্রুতই একটি নির্দিষ্ট ইমেইল আইডি-ও প্রকাশ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অভিযোগ জানানো যাবে।
কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত?
সাধারণত ভোটের সময় ভোটার তালিকায় নাম না থাকা, বুথ দখল, ভোটদানে বাধা বা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়ে। অনেক সময় অভিযোগের পাহাড় জমলেও সমাধান হতে দেরি হয়। কমিশনের আশা, এই ৮ ঘণ্টার ডেডলাইন নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।
নবান্নে বাড়ছে কর্মীর বহর:
অভিযোগ নিষ্পত্তির এই বিশাল কাজ সামলাতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে নবান্নে অতিরিক্ত কর্মীর আবেদন জানানো হয়েছে। বর্তমানে মাইক্রো অবজারভার ও সীমিত আধিকারিক দিয়ে কাজ চললেও, ভোটের সময় চাপ সামলাতে প্রশাসনিক সহায়তা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
ভোটার তালিকায় বড় আপডেট:
সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা নিয়েও বড় খবর দিয়েছে কমিশন। তালিকায় এবার দুটি স্বচ্ছ কলাম থাকবে:
অ্যাডিশন: যেখানে নতুন নাম সংযোজন দেখা যাবে।
ডিলিটেড: যেখান থেকে বাদ পড়া নামগুলি স্পষ্ট বোঝা যাবে।
কবে আসছে তালিকা?
সূত্র মারফত খবর, চলতি সপ্তাহের শুক্রবারই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে পারে। এরপর থেকে প্রতি সপ্তাহে নতুন আপডেট তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন, যাতে ভোটাররা সহজেই নিজেদের নামের স্থিতি যাচাই করে নিতে পারেন।