D.El.Ed কলেজে হাজিরায় বড় ধাক্কা! পর্ষদের কড়া নির্দেশে ঘুম উড়ল পড়ুয়া ও শিক্ষকদের?

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং ডি.এল.এড (D.El.Ed) কলেজগুলির পঠনপাঠনের মানোন্নয়নে এক নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE)। এবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি বেসরকারি ডি.এল.এড কলেজে ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের হাজিরা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পর্ষদের এই নতুন নির্দেশিকা ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে শিক্ষা মহলে।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, রাজ্যের বহু বেসরকারি ডি.এল.এড কলেজে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার খাতায়-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার মিল পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে কলেজে না গিয়েও হাজিরা দেওয়ার মতো কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন (NCTE)-এর গাইডলাইন মেনে চলতে কোমর বেঁধে নেমেছে পর্ষদ। ২০১৯ সালেই এনসিটিই গুণগত মান বজায় রাখতে বায়োমেট্রিক হাজিরার ওপর জোর দিয়েছিল। সেই পথ অনুসরণ করেই এবার বেসরকারি কলেজগুলির ওপর রাশ টানতে চাইছে রাজ্য।

পর্ষদের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য কলেজগুলিকে মাত্র ৩০ দিন বা এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কলেজ চত্বরে বায়োমেট্রিক মেশিন বসানোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে। শুধুমাত্র পড়ুয়ারা নন, কলেজের প্রত্যেক নিযুক্ত শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীকেও প্রতিদিন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমেই নিজেদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে হবে।

পর্ষদ আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম মানতে অস্বীকার করে বা হাজিরা নিয়ে কোনো ধরনের জালিয়াতি করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই কলেজের অনুমোদন বাতিলের মতো চরম সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। মূলত শিক্ষা ব্যবস্থাকে দালালমুক্ত করা এবং প্রকৃত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতেই পর্ষদের এই ডিজিটাল দাওয়াই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।