তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা হতেই বিদ্রোহ! টিকিট না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মন্ত্রী থেকে বিধায়ক

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সাথে সাথেই আনন্দের বদলে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ল ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীদের বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন অসন্তোষ। টিকিট না পেয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন উত্তরবঙ্গের প্রভাবশালী মন্ত্রী তাজমুল হোসেন থেকে শুরু করে প্রবীণ নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও বিধায়ক অসিত মজুমদার। এই বিদ্রোহ কি নির্বাচনের আগে তৃণমূলের বড় কোনো ভাঙনের পূর্বাভাস? রাজ্য রাজনীতিতে এখন এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রাজগঞ্জ থেকে। টিকিট না পেয়ে রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়। সূত্রের খবর, তিনি ইতিমধ্যেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সংগঠনকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। খগেশ্বরবাবুর অনুগামীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুরের দাপুটে নেতা ও মন্ত্রী তাজমুল হোসেনের নাম তালিকায় না থাকায় তাঁর সমর্থকরাও চরম ক্ষুব্ধ। একই ছবি দেখা গিয়েছে কোচবিহারেও। প্রবীণ নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের টিকিট না পাওয়াটা স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর গলায় শোনা গেছে অভিমানের সুর, যা আদতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর এক ধরনের চাপ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের গলায় শোনা গেছে চরম হতাশার কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের এই সেনাপতি কেন ব্রাত্য হয়ে গেলেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেই গুঞ্জন তুঙ্গে। অসিতবাবুর অনুগামীদের দাবি, যারা দলের জন্য কাজ করেছেন তাদের অবহেলা করা হয়েছে। জেলায় জেলায় এই বিক্ষোভের ফলে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস শিবির ঘর গোছাতে ব্যস্ত, তখন খোদ তৃণমূলের হেভিওয়েটদের এই বিদ্রোহ নবান্ন ও কালীঘাটের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এখন দেখার, ক্ষুব্ধ নেতাদের মান ভাঙাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী পদক্ষেপ নেন।