তেহরানের রাশ এখন কট্টরপন্থীদের হাতে! লারি জানির মৃত্যুতে ট্রাম্পের সমঝোতা প্রস্তাবও কি বিশ বাঁও জলে?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আলি লারি জানির (Ali Larijani) মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া কার্যত মৃত ঘোষণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইজরায়েলি হামলায় তাঁর মৃত্যু কেবল এক নেতার বিদায় নয়, বরং তেহরান ও তেল আভিভের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার শেষ সেতুটি ভেঙে যাওয়া বলে মনে করা হচ্ছে।

শান্তির দূত নাকি লক্ষ্যভ্রষ্ট রাজনীতি? আলি লারি জানি ছিলেন ইরানের রাজনীতিতে কট্টরপন্থী এবং মধ্যপন্থীদের মধ্যে ভারসাম্যের প্রতীক। ইউরোপীয় কাউন্সিলের বিদেশ নীতি বিশেষজ্ঞ এলি গেরানমায়ে জানিয়েছেন, লারি জানিই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি মোজতাবা প্রশাসনকে বুঝিয়ে যুদ্ধের ইতি টানতে পারতেন। ইজরায়েল পরিকল্পিতভাবে তাঁকে নিশানা করেছে যাতে আলোচনার কোনো পথ খোলা না থাকে। এখন ইরানের শাসনভার সম্পূর্ণভাবে কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় প্রতিশোধের আগুন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা।

মোজতাবা খামেনেই ও লারি জানি দ্বন্দ্ব আলি লারি জানি বরাবরই বংশপরম্পরায় ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধী ছিলেন। খামেনেই-পুত্র মোজতাবা খামেনেইয়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হওয়া নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল নীতিগত। তা সত্ত্বেও মোজতাবা ক্ষমতায় বসার পর লারি জানিই ছিলেন প্রশাসনের প্রধান পরামর্শদাতা। তাঁর অবর্তমানে মোজতাবা প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো আর কেউ রইল না।

ইজরায়েলের অনড় অবস্থান ইজরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আয়াতোল্লাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত এই সংঘাত থামবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমঝোতা প্রস্তাবকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের পথেই অনড়। লারি জানির মৃত্যুর পর ইরানের বিদেশমন্ত্রীও পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর এই বসন্তে পশ্চিম এশিয়া এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।