কেন্দীয় ব্যাঙ্কের রিজার্ভ থেকে খনির খরচ— সোনা ও রুপোর দামের আকাশ-পাতাল পার্থক্যের রহস্য ফাঁস!

বিনিয়োগের কথা উঠলে বা গয়না তৈরির প্রসঙ্গ এলে আমাদের মাথায় প্রথমেই আসে সোনা ও রুপোর নাম। বাজার অস্থির থাকলে এই দুই ধাতুই নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, রুপো অনেক বেশি কাজে লাগলেও কেন সোনার দাম রুপোর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হয়? এর পেছনে রয়েছে কিছু অকাট্য বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিক কারণ।
১. সোনার বিশাল বাজার ও আস্থার প্রতীক: সোনার বাজারের পরিধি রুপোর তুলনায় অনেক বড়। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, রুপোর বাজার সোনার মাত্র ১০ শতাংশ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষ রুপোর চেয়ে সোনার ওপর বেশি ভরসা রাখে, যা এর চাহিদাকে আকাশচুম্বী করে রাখে।
২. খনি থেকে তোলার খরচ ও সহজলভ্যতা: সোনা মাটির অনেক গভীর থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল পদ্ধতিতে সংগ্রহ করতে হয়। অন্যদিকে, রুপো অনেক বেশি সহজলভ্য। তামা বা দস্তা উত্তোলনের সময় উপজাত (By-product) হিসেবেও রুপো পাওয়া যায়, ফলে এর উৎপাদন খরচ অনেক কম।
৩. শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার ও ঝুঁকি: রুপো মূলত একটি শিল্প-নির্ভর ধাতু। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিলে শিল্পে রুপোর চাহিদা কমে যায়, ফলে এর দাম দ্রুত পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সোনা মূলত সম্পদ হিসেবে সঞ্চিত থাকে, তাই এর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল।
৪. কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের রিজার্ভ: সারা বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি তাদের সঞ্চয় বা রিজার্ভ হিসেবে প্রচুর পরিমাণে সোনা জমা রাখে। সরকারি পর্যায়ের এই বিপুল চাহিদাই সোনাকে সবসময় দামি করে রাখে। আধুনিক যুগে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি রিজার্ভে রুপো রাখার তেমন প্রয়োজন বোধ করে না।