AI-এর কোপে কি এবার IT সেক্টরে গণছাঁটাই? স্যাম অল্টম্যানের বিস্ফোরক পোস্ট, উদ্বিগ্ন ইঞ্জিনিয়াররা!

এক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে হাজার হাজার লাইনের কোড লিখতেন ইঞ্জিনিয়াররা। একটা ‘সেমিকোলন’-এর ভুলে রাতের ঘুম উড়ত তাঁদের। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ঝড়ে সেই চিরচেনা ছবিটা কি এবার চিরতরে বদলে যেতে চলেছে? ওপেনএআই (OpenAI) কর্তা স্যাম অল্টম্যানের সাম্প্রতিক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড়।
কী লিখেছেন অল্টম্যান? সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে অল্টম্যান লিখেছেন, “যাঁরা ক্যারেক্টার ধরে ধরে জটিল সফটওয়্যার লিখেছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।” আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি ধন্যবাদ বার্তা মনে হলেও, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ একে দেখছেন ‘বিদায় ঘণ্টা’ হিসেবে। তাঁদের মতে, অল্টম্যান পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিলেন যে, মানুষের হাতে কোডিং করার দিন এবার শেষ হতে চলেছে।
AI বনাম জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার: বর্তমানে ChatGPT বা Claude-এর মতো AI মডেলগুলো চোখের পলকে নির্ভুল কোড লিখে দিচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এন্ট্রি-লেভেলের বা জুনিয়র ইঞ্জিনিয়াররা। যে ছোটখাটো কোডিং বা বাগ ফিক্সিংয়ের কাজ শিখতে আগে বছরের পর বছর সময় লাগত, এখন সেই কাজ AI কয়েক সেকেন্ডে করে দিচ্ছে। ফলে আইটি সেক্টরে নতুনদের চাকরির সুযোগ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ারদের ভবিষ্যৎ কী? তবে কলকাতার আইটি বিশেষজ্ঞরা এখনই হাল ছাড়তে নারাজ। তাঁদের মতে:
-
অটোমেশন: AI সাধারণ কাজগুলো করে দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বড় সিস্টেম ডিজাইন বা জটিল লজিক তৈরির জন্য মানুষের মস্তিস্ক এখনও অপরিহার্য।
-
সৃজনশীলতা: কোড লেখা আর সিস্টেম বানানো এক নয়। নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বা মানবিক বিচারবুদ্ধি প্রয়োগে AI এখনও অনেক পিছিয়ে।
-
নতুন যুগ: এটি কোনো পেশার সমাপ্তি নয়, বরং বিবর্তন। অল্টম্যানের বার্তাকে অনেকে ‘বিদায়’ নয়, বরং AI ও মানুষের মেলবন্ধনে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
সমীক্ষায় চমকপ্রদ তথ্য: অ্যানথ্রোপিক-এর একটি সমীক্ষা বলছে, গণিত বা কম্পিউটারের কাজে AI প্রায় ৯৪ শতাংশ সাহায্য করতে সক্ষম হলেও বাস্তবে এর ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ সম্ভাবনা থাকলেও মানুষ এখনও পুরোপুরি AI-এর ওপর নির্ভর করতে পারছে না। বিশেষ করে আইনি লড়াই বা শারীরিক শ্রমের কাজে AI-এর প্রভাব এখনও অত্যন্ত সীমিত।
উপসংহার: প্রযুক্তি জগত এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। কোডারদের হয়তো আর ‘ক্যারেক্টার ধরে ধরে’ কোড লিখতে হবে না, কিন্তু AI-কে সঠিক নির্দেশ দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য মানুষের প্রয়োজন থাকবেই। অল্টম্যানের এই ‘কৃতজ্ঞতা’ আগামীর এক কঠিন কিন্তু উন্নত ডিজিটাল পৃথিবীরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।