এআই যুদ্ধের উত্তাপে পুড়ছে সার্ভার! চিনের প্রযুক্তিতেই কি ঠান্ডা হবে গুগলের ডেটা সেন্টার? তোলপাড় বিশ্ব

২০১০ সালে চিনের কড়া সেন্সরশিপের প্রতিবাদে পাততাড়ি গুটিয়েছিল গুগল। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফের চিনা ভূখণ্ডে পা রাখল সুন্দর পিচাইয়ের সংস্থা। তবে এবার কোনো সার্চ ইঞ্জিন বা জিমেইল পরিষেবা চালু করতে নয়, বরং চিনা প্রযুক্তির ‘সাহায্য’ নিতেই এই প্রত্যাবর্তন। রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নিজেদের অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পরিকাঠামোকে সচল রাখতে চিনা সংস্থার তৈরি বিশেষ ‘কুলিং এজেন্ট’ কিনতে চাইছে এই টেক জায়ান্ট।
ডেটা সেন্টারের উত্তাপ কমাতে চিনা দাওয়াই গুগল বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এআই পরিকাঠামো তৈরির জন্য অসংখ্য ডেটা সেন্টার তৈরি করছে। এই ডেটা সেন্টারগুলোতে থাকা হাজার হাজার সার্ভার যখন কাজ করে, তখন তা থেকে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়। সাধারণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (AC) দিয়ে এই তাপ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তাই গুগল ঝুঁকছে ‘লিকুইড কুলিং’ প্রযুক্তির দিকে। এই পদ্ধতিতে জল ও বিশেষ রাসায়নিক মিশ্রিত কুলিং এজেন্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে সার্ভারের যন্ত্রাংশ ঠান্ডা রাখে।
চিন ও তাইওয়ানের মধ্যে গোপন বৈঠক! রিপোর্ট বলছে, গুগলের তাইওয়ান ভিত্তিক একটি প্রকিউরমেন্ট টিম ইতিমধ্যেই চিনের ‘Envicool’ নামক একটি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছে। ২০০৫ সালে চিনে যাত্রা শুরু করা এনভিকুল বর্তমানে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বৃহৎ সংস্থা। তারা সম্প্রতি দাবি করেছে যে, গুগলের সার্ভার ঠান্ডা রাখার জন্য তারা একটি বিশেষ কুলিং এজেন্ট তৈরি করেছে, যার গুণমানে সন্তুষ্ট হয়েই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও আরও অন্তত একটি চিনা সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে গুগল।
বড় হচ্ছে বাজার, নজরে ২০২৬ জেপি মর্গান (JP Morgan)-এর একটি রিপোর্ট বলছে, ২০২৬ সালের মধ্যে লিকুইড কুলিং এজেন্টের চাহিদা বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে। ২০২৫ সালে এই বাজার যেখানে ৮.৯ বিলিয়ন ডলারের ছিল, ২০২৬ সালে তা ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। এআই যুদ্ধের উত্তাপে যখন তাবড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো হিমশিম খাচ্ছে, তখন চিনা কুলিং এজেন্টের ওপর গুগলের এই নির্ভরতা বিশ্ব রাজনীতি ও প্রযুক্তির আঙিনায় নতুন সমীকরণের জন্ম দিল।