‘রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায় শুরু!’ শিলিগুড়িতে গৌতম দেবকে বেনজির আক্রমণ শঙ্কর ঘোষের

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। আর এই উত্তাপের এপিসেন্টার হয়ে উঠেছে শিলিগুড়ি কেন্দ্র। এবার এই আসনে লড়াই হতে চলেছে বর্তমান বিধায়ক বনাম বর্তমান মেয়রের। বিজেপির শঙ্কর ঘোষ বনাম তৃণমূলের প্রবীণ নেতা গৌতম দেব। তবে লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্ক উসকে দিলেন শঙ্কর ঘোষ। তাঁর সাফ দাবি, শিলিগুড়িতে গৌতম দেবের প্রার্থী হওয়া মানেই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের ইতি ঘটা।
‘আশীর্বাদ’ না কি ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত? বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের মতে, গৌতম দেবকে শিলিগুড়িতে প্রার্থী করে তৃণমূল আসলে বিজেপির পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “শিলিগুড়ি থেকে গৌতম দেবের প্রার্থী হওয়া আমাদের কাছে আশীর্বাদের মতো। এটা ওনার রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায় হতে চলেছে।” শঙ্করবাবুর যুক্তি, নিজের পুরনো দুর্গ ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ছেড়ে শিলিগুড়িতে লড়তে আসা গৌতম দেবের জন্য ‘আত্মঘাতী’ প্রমাণিত হবে। উল্লেখ্য, ২০২১-এ এই শিলিগুড়ি থেকেই প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন শঙ্কর ঘোষ।
উন্নয়ন বনাম সংগঠন: লড়াই সমানে সমানে পাল্টা আত্মবিশ্বাসে ডগমগ শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবও। তিনি মনে করেন, শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র হিসেবে গত কয়েক বছরে রাস্তা, আলো এবং জল সরবরাহের যে পরিকাঠামো তিনি গড়ে তুলেছেন, মানুষ তারই প্রতিদান দেবেন। নিজের জন্মভিটে থেকে লড়াই করাকে তিনি বাড়তি পাওনা হিসেবেই দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গে হারানো জমি ফিরে পেতে গৌতম দেবের মতো অভিজ্ঞ মুখই তৃণমূলের তুরুপের তাস।
নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের ছায়া শিলিগুড়িতে শিলিগুড়ির লড়াইয়ের মাঝেই রাজ্য রাজনীতির বড় ইস্যুগুলো টেনে এনেছেন শঙ্কর ঘোষ। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, “সাহস থাকলে নন্দীগ্রাম থেকে লড়ুন।” যদিও ২০২৬-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর থেকেই লড়ছেন এবং শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা করে লড়াইকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন। শিলিগুড়ির এই লড়াই শুধু একটি আসনের নয়, বরং গোটা উত্তরবঙ্গে পদ্ম না কি ঘাসফুল, কে দাপট দেখাবে— তার লিটমাস টেস্ট হতে চলেছে।