সুপ্রিম কোর্টে চরম অস্বস্তিতে মমতা! আইপ্যাক মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে কড়া বার্তা শীর্ষ আদালতের

আইপ্যাক (I-PAC) মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকার। গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের দফতরে ইডি-র তল্লাশিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ নিয়ে বুধবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে একজন মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে বাধা দেওয়া ‘সুখকর নয়’। শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নবান্নের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।

ঠিক কী ঘটেছিল ৮ জানুয়ারি? কয়লা কেলেঙ্কারি ও অর্থপাচারের অভিযোগে ওইদিন আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালাতে যায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। অভিযোগ ওঠে, খবর পেয়েই তড়িঘড়ি প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে ল্যাপটপ, ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ফাইল নিয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন। এরপর সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে গিয়েও তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ইডি-র দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নথি চুরিতে লিপ্ত ছিলেন এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ বুধবার শুনানির সময় বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি সরকারি দফতরে ঢুকে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেন, তবে তার সমাধান কী? ভবিষ্যতে অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী এমন করলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে?” শীর্ষ আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থার কাজে রাজ্যের হস্তক্ষেপ রুখতে ভবিষ্যতে কড়া বিধি বা গাইডলাইন তৈরি করা হতে পারে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, ইডি-র নিশানায় রয়েছে রাজ্য পুলিশও। তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের গ্রেফতারির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইডি-র পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে, রাজ্য প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে তদন্ত আটকানোর চেষ্টা করছে। বুধবারের এই শুনানির পর আইপ্যাক মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজীব কুমারের ওপর চাপ যে কয়েক গুণ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।