বরানগরে সজল-সায়নদীপ দ্বৈরথ! ব্যক্তিগত আক্রমণে তপ্ত ময়দান, সায়ন্তিকার মুখে কেন ‘চৌবাচ্চার ব্যাঙ’?

বরানগর বিধানসভা উপনির্বাচনের উত্তাপ এবার চরমে। ২০২৪-এর উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হওয়া সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ফের ভরসা রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এবারের লড়াইয়ে উন্নয়নের চেয়েও বেশি চর্চায় উঠে আসছে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত আক্রমণ। বিজেপির সজল ঘোষ এবং সিপিএমের সায়নদীপ মিত্রের মধ্যে যে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে— বিরোধীদের এই কোন্দলেই কি সায়ন্তিকার জয়ের পথ আরও প্রশস্ত হচ্ছে?
সজল-সায়নদীপ: আক্রমণ ও পালটা আক্রমণ নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে সজল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বামেদের দিকে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে সিপিএম একসময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বুর্জোয়া কবি’ এবং স্বামী বিবেকানন্দকে ‘ভণ্ড সন্ন্যাসী’ বলেছিল। সজল প্রশ্ন তোলেন, “যাঁরা ইন্দিরা গান্ধীকে রাক্ষসী বলেছিল, আজ কংগ্রেসের হাত ধরতে তাঁদের লজ্জা হয় না?” সায়নদীপ মিত্রকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, সায়নদীপ যে দলবদল করবেন না, তার গ্যারান্টি কোথায়?
পালটা দিতে ছাড়েননি সিপিএমের সায়নদীপ মিত্রও। সজল ঘোষকে সরাসরি ‘শিশু’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, “সজলবাবু বুড়ো বয়সেও ছাত্র রাজনীতি করেছেন। উনি তো শিশু, ওনার উচিত দুধের ফিটিং বোতল নিয়ে ঘরে শুয়ে থাকা।” রাজনৈতিক লড়াই যখন নীতি-আদর্শ ছেড়ে ব্যক্তিগত স্তরে নেমে আসে, তখন ভোটারদের মনে তার কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার।
সায়ন্তিকার কৌশল: ‘উন্নয়নই শেষ কথা’ বিরোধীদের এই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে নিয়ে করা বিজেপির পুরনো কটাক্ষের (সায়ন্তিকা না অ্যাকোয়াটিকা) জবাবে তিনি বলেন, “চৌবাচ্চার ব্যাঙ একটু বেশিই লাফায়।” সায়ন্তিকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণে যাবেন না। তাঁর প্রধান হাতিয়ার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং গত কয়েক মাসে বিধায়ক হিসেবে তাঁর করা কাজ। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আশাবাদী।
ভোটের সমীকরণ ২০২৪-এর উপনির্বাচনে সায়ন্তিকা জয়ী হলেও সময় কম থাকায় সব কাজ শেষ করতে পারেননি। এবার পূর্ণ মেয়াদে বিধায়ক হওয়ার লক্ষ্যে তিনি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরানগরে বিজেপি ও বামেদের মধ্যে ভোট কাটাকাটির সমীকরণ সায়ন্তিকাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। বিশেষ করে সজল ও সায়নদীপের এই ‘মুখোমুখি সংঘাত’ যদি ভোট বিভাজনকে ত্বরান্বিত করে, তবে ঘাসফুল শিবিরের জন্য বৈতরণী পার হওয়া সহজ হবে।