বাংলার ১৬০ বছরের ঐতিহ্য! জিলিপির টানেই হাজার হাজার মানুষের ভিড় ঝাড়গ্রামের এই মেলায়

মেলা মানেই হরেক জিনিসের পসরা, কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের সীমান্তে বিনপুর থানার হাড়দা গ্রামের মেলাটি একটু আলাদা। এখানে মেলার প্রধান আকর্ষণ কোনো নাগরদোলা বা ঘরকন্নার জিনিস নয়, বরং প্যাঁচালো মিষ্টি জিলিপি। আনুমানিক ১৬০ বছর আগে শুরু হওয়া এই ‘জিলিপি মেলা’ আজও সমান জনপ্রিয়। প্রতি বছর লক্ষ্মীপুজো থেকে শুরু হয়ে ভাইফোঁটা পর্যন্ত চলে এই উৎসব।
এই মেলার সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে জিলিপির দোকান থাকে মাত্র একটি। আর সেই একটি দোকান দেওয়ার বরাত পেতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে রীতিমতো নিলাম বা টক্কর চলে। পুজো কমিটি জিলিপির দাম আগে থেকেই বেঁধে দেয়। এখানকার জিলিপি সাধারণ ময়দার নয়, বরং চালের গুঁড়ি এবং বিউলির ডালের মিশ্রণে তৈরি হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই জিলিপি এতটাই উন্নত মানের যে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাখলেও তা নষ্ট হয় না বা নরম হয়ে যায় না।
মেলা চলাকালীন প্রায় ১,৬০০ কুইন্টালের বেশি জিলিপি বিক্রি হয় এখানে। শুধু গ্রাম বা জেলা নয়, প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকেও পর্যটকরা আসেন এই বিশেষ জিলিপির স্বাদ নিতে। ট্রেনে-বাসে ভিড় করে মানুষ পৌঁছান হাড়দা গ্রামে, শুধুমাত্র জিলিপিতে একটি কামড় দেওয়ার টানে।