পাহাড়ে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বনাম নারী নিরাপত্তা! মহিলা ভোটারদের মন জয়ে কোন পথে শাসক-বিরোধী?

২০২৬-এর নির্বাচনে পাহাড় ও সমতলের পাঁচটি আসনে জয় নিশ্চিত করতে মহিলা ভোটারদের ওপরই বাজি ধরছে তৃণমূল কংগ্রেস ও তাদের সহযোগী ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (BGPM)। দার্জিলিং জেলার মোট ১১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২০৯ জন ভোটারের মধ্যে মহিলার সংখ্যা ৫ লক্ষ ৭১ হাজার, যা পুরুষ ভোটারদের (৫ লক্ষ ৩৫ হাজার) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এবং শিলিগুড়ি— এই চারটি আসনেই মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘কন্যাশ্রী’র মতো প্রকল্পগুলি শাসকশিবিরের জন্য বড় অক্সিজেন।

তৃণমূলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক প্রকল্পগুলি মহিলাদের স্বাবলম্বী করেছে, যার প্রতিফলন ঘটবে ব্যালট বাক্সে। তবে বিরোধীরা এই ‘ভাতা রাজনীতি’র বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। বিজেপির দাবি, মহিলারা এখন ভাতার বদলে নিরাপত্তা এবং যুবকরা চাকরির নিশ্চয়তা চান। বিশেষ করে আরজি কর কাণ্ড এবং সাম্প্রতিক নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলিকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে পদ্ম শিবির। তাদের স্লোগান— “ভাতা নয়, সুরক্ষা চাই।”

দার্জিলিং জেলার জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল জানিয়েছেন, এবার স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে প্রায় ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের তিনটি আসনে অনীত থাপার দল লড়লেও সেখানে তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের খতিয়ানই হবে প্রধান হাতিয়ার। অন্যদিকে, বিজেপি ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের স্বপ্ন দেখিয়ে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া। পাহাড়ের রাজনৈতিক অংকে জিএনএলএফ ও অজয় এডওয়ার্ডের দলের উপস্থিতিতে লড়াই এখন বহুমুখী।