‘মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ইডির কাজে বাধা কেন?’ আই-প্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের তোপে রাজ্য সরকার!

সল্টলেকে ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের অফিসে ইডি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত এবার সুপ্রিম কোর্টের দোরগোড়ায়। গত ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার মামলার সূত্রে আই-প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাসভবন ও অফিসে তল্লাশিতে গিয়ে যে বাধার মুখে ইডি পড়েছিল, তা নিয়ে নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ দিল দেশের শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম তোপে মুখ্যমন্ত্রী এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিচারপতিরা স্পষ্ট জানান, একজন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আদালত কড়া ভাষায় বলে, “এটা কোনোভাবেই সুখকর পরিস্থিতি নয়। এভাবে চললে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো তো সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়বে!”
রাজ্যকে সপাটে জবাব আদালতের এদিন শুনানির শুরুতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মামলা স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আরজি খারিজ করে দিয়ে বিচারপতিরা কড়া সুরে বলেন, “আদালত কীভাবে চলবে তা আইনজীবীরা নির্দেশ দিতে পারেন না, সেটা বেঞ্চই ঠিক করবে।” আদালতের প্রশ্ন, আজ একজন মুখ্যমন্ত্রী সরকারি দফতরে গিয়ে কাজ থামিয়ে দিচ্ছেন, ভবিষ্যতে যদি অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা একই কাজ করেন, তবে তার প্রতিকার কী?
আসছে নতুন নিয়ম (SOP)? তদন্তে বাধা দেওয়ার এই ঘটনাকে ‘অর্গানিক পরিস্থিতি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে যাতে কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে এভাবে হেনস্থার শিকার না হতে হয়, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) বা গাইডলাইন তৈরি করা হতে পারে।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ইডির অভিযোগ ছিল গত ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার কেলেঙ্কারির তদন্তে আই-প্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানোর সময় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য প্রশাসন তাদের কাজে বাধা দেয়। সেই ঘটনার রেশ ধরেই এবার সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় অস্বস্তিতে পড়ল রাজ্য সরকার।