সংসদে হাসির রোল! আঠওয়ালে থেকে দেবেগৌড়া— বিদায়ী ভাষণে কাকে কাকে ‘খোঁচা’ দিলেন মল্লিকার্জুন খাড়্গে?

বুধবার রাজ্যসভার কক্ষপথ সাক্ষী থাকল এক অদ্ভুত মৈত্রীর। বিদায়ী ভাষণে রাজনীতির তিক্ততা ভুলে হাস্যরসে মাতলেন বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তাঁর নিশানায় ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ. ডি. দেবেগৌড়া। জেডিএস (JDS) নেতার রাজনৈতিক অবস্থান বদলকে খাড়্গে যেভাবে ব্যাখ্যা করলেন, তাতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও হাসি চেপে রাখতে পারেননি।
খাড়্গে মজার ছলে বলেন, “দেবেগৌড়া সাহেবকে আমি ৫৪ বছর ধরে চিনি। উনি আমাদের সঙ্গে ডেট করেছেন, আমাদের ভালোবেসেছেন, কিন্তু শেষে বিয়েটা করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে!” খাড়্গের এই ‘বিয়ে’র রূপকটি আসলে জেডিএস-এর বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানোকে ইঙ্গিত করে। ১৯৯৬ এবং ২০১৮ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে দেবেগৌড়ার সখ্যতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে এই রসিকতা করেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে সংসদের গম্ভীর পরিবেশ হালকা হয়ে যায়।
রসিকতা থেকে বাদ যাননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠওয়ালে-ও। খাড়্গে টিপ্পনি কেটে বলেন, “আঠওয়ালে এমন কোনো কবিতা জানেন না, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা নেই।” এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও আঠওয়ালেকে ‘চিরসবুজ’ বলে অভিহিত করেন। বিদায়ী সাংসদদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানিয়ে মোদি বলেন, “রাজনীতিতে কোনো ফুলস্টপ নেই।” শরদ পাওয়ার, খাড়্গে এবং দেবেগৌড়ার মতো অভিজ্ঞ নেতাদের থেকে নতুনদের শেখার পরামর্শ দেন তিনি। এ বছর রাজ্যসভার ফাঁকা হওয়া ৩৭টি আসনের রদবদলের আবহে এই হাস্যরসাত্মক মুহূর্তটি সংসদীয় ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল।