আটা নেই, তেল নেই, এখন শুরু হলো যুদ্ধ! ধ্বংসের দোরগোড়ায় পাকিস্তান?

২০২৬-এর শুরু থেকেই পাকিস্তানের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। একদিকে মার্কিন-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের আকাল, অন্যদিকে ঘরের পাশে আফগানিস্তানের সঙ্গে পুরোদমে যুদ্ধ—এই সাঁড়াশী চাপে দিশেহারা ইসলামাবাদ। দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ এখন ৭৯,৩২২ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে, যা পাকিস্তানের জিডিপির প্রায় ৭০ শতাংশ।

বর্তমানে পাকিস্তানের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, সরকারি গাড়ির সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের কারণে মন্ত্রীদের বেতন কমানো হয়েছে এবং সরকারি দপ্তরে খরচ ছাঁটাই করা হয়েছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার ফলে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডন পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ১২০ ডলারে পৌঁছায়, তবে পাকিস্তানের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

গোদের ওপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ। তোরখাম ও চামান সীমান্ত বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ থমকে গেছে। আটা, ডাল ও চালের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এমনকি কয়লার অভাবে সিমেন্ট কারখানাও বন্ধ হওয়ার মুখে। ১৯৫৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৬ বার আইএমএফ-এর (IMF) দ্বারস্থ হয়েও পাকিস্তানের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এবার হয়তো সত্যিই দেউলিয়া হওয়ার অন্তিম লগ্নে দাঁড়িয়ে আছে এই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র।