রেজিনগর না নওদা? ভরতপুর ছেড়ে দুই কেন্দ্রে লড়ছেন হুমায়ুন, তালিকায় ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাইও!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিলেন হুমায়ুন কবীর। বড় রাজনৈতিক দলগুলি যখন তাদের রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই নিজের সংগঠন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিলেন তিনি। কলকাতার এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দল রাজ্যের মোট ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেবে।

এদিন মূলত মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলাকে পাখির চোখ করে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল হুমায়ুন কবীরের নিজের লড়াই নিয়ে। নিজের দীর্ঘদিনের দুর্গ ভরতপুর ছেড়ে তিনি এবার রেজিনগর ও নওদা—এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক জেলায় দুটি আসন বেছে নেওয়ার এই কৌশল অনেকটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কিংবা শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম কেন্দ্রিক লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই মাস্টারস্ট্রোক কি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত?

প্রার্থী তালিকায় রয়েছে একাধিক হেভিওয়েট ও বিতর্কিত নাম। কান্দি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে ইয়াসিন হায়দারকে, যিনি রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাতা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া পূর্বস্থলী উত্তর থেকে বাপন ঘোষ, বেলডাঙায় সৈয়দ আহমেদ কবীর এবং সুজাপুরে নাসিমুল হকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মালদহ জেলার রতুয়া থেকে রয়াল ইসলাম, মালতীপুরে আবদুল মিনাজ শেখ এবং বৈষ্ণবনগরে মুসকরা বিবিকে ময়দানে নামিয়েছেন হুমায়ুন। বিশেষ নজর কাড়ছে ভবানীপুর কেন্দ্রটি, যেখানে এক অবাঙালি মুসলিম প্রার্থীকে দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর আরও জানিয়েছেন, আগামী ২২ মার্চ রবিবার দুপুরে বাকি প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি জানান, বেশ কিছু নির্দিষ্ট কেন্দ্রে মিমের (AIMIM) সাথে তাঁর দলের সরাসরি লড়াই হবে। এখন দেখার, হুমায়ুনের এই ১৮২ আসনের ‘মিশন’ বড় দলগুলোর ভোটব্যাঙ্কে কতটা থাবা বসাতে পারে।

Samrat Das
  • Samrat Das