“শত্রুর রাডারে ধরা না দিয়েই ধ্বংস হবে টার্গেট!”-মার্কিন যুদ্ধবিমানে এল ‘স্মার্ট বোমা’

দীর্ঘ কয়েক বছরের গবেষণা, কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ এবং মাসব্যাপী নিবিড় পরীক্ষানিরীক্ষার পর অবশেষে সাফল্য। মার্কিন নৌবাহিনীর দাপুটে ‘সুপার হরনেট’ (Super Hornet) যুদ্ধবিমানে যুক্ত হতে চলেছে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক স্মার্ট অস্ত্র— ‘রেথিওন স্টর্মব্রেকার’ (Raytheon StormBreaker)। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসা এই ঘোষণা সামরিক বিশ্বে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

কেন এই ‘স্টর্মব্রেকার’ এত ভয়ংকর?

প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই স্মার্ট অস্ত্রটি যুদ্ধবিমানের আক্রমণ ক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর বিশেষত্বগুলো হলো:

  • দুর্যোগেও অদম্য: আগে প্রতিকূল আবহাওয়া বা ঘন মেঘে লক্ষ্যভেদে বেগ পেতে হতো পাইলটদের। এখন দিন হোক বা রাত, চরম ঝড়-বৃষ্টিতেও স্থির বা চলন্ত যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানবে এই বোমা।

  • বিপজ্জনক রেঞ্জ: এটি ৪৫ মাইলেরও বেশি দূর থেকে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে। ফলে পাইলটদের শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা সীমানার (SAMS) ভেতরে ঢুকে জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে হবে না।

  • ক্ষুদ্র অথচ শক্তিশালী: আকারে ছোট হওয়ায় একটি সুপার হরনেট বিমান আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক স্টর্মব্রেকার বহন করতে পারবে। অর্থাৎ, কম বিমান পাঠিয়েই বেশি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা সম্ভব।

মগজে তিন স্তরের প্রযুক্তি: কীভাবে কাজ করে?

স্টর্মব্রেকারের অন্যতম ম্যাজিক হলো এর ট্রিপল-মোড সিকার। এটি লক্ষ্য শনাক্ত করতে তিনটি ভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে: ১. মিলিমিটার ওয়েভ রেডার: কুয়াশা বা ধোঁয়ার মধ্যেও চলন্ত টার্গেট খুঁজে বের করে। ২. ইমেজিং ইনফ্রারেড: তাপীয় ইমেজের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুকে চিনে নেয়। ৩. সেমিঅ্যাক্টিভ লেজার গাইডেন্স: নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সাহায্য করে। এই তিন স্তরের তথ্য একীভূত হওয়ায় দৃষ্টিসীমা শূন্য থাকলেও লক্ষ্যবস্তু নিস্তার পাবে না।

এক একটি বোমার আকাশছোঁয়া দাম!

প্রতিরক্ষা খাতের এই উন্নত প্রযুক্তির খরচ শুনলে সাধারণ মানুষের চোখ কপালে উঠতে পারে। ২০২৩ সালের একটি অর্ডারের হিসেবে:

  • মোট অর্ডার: ৩২ কোটি ডলার (দেড় হাজারটি বোমা)।

  • একটির দাম: প্রায় ২ লক্ষ ১৩ হাজার ডলার। এটি একজন গড় আমেরিকান নাগরিকের বার্ষিক আয়ের প্রায় তিন গুণ! তবুও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শত্রুপক্ষ যখন খারাপ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে লুকিয়ে থাকে, তখন এই খরচ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

ইতিমধ্যেই এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমানের জন্য এটি অনুমোদিত হয়েছে এবং এফ-৩৫ (F-35) ফাইটার জেটের তিনটি সংস্করণের জন্যই একে উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। সুপার হরনেটের এই নতুন ‘ডানা’ বিশ্বজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর আধিপত্যকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।